
নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া এলাকায় দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা বেঙ্গল শু ইন্ডাস্ট্রিজ স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কারখানাটিতে কর্মরত প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাদের।
চলতি বছরের ১৫ মে কারখানার প্রধান ফটকে স্থায়ীভাবে বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, ব্যাংকিং জটিলতা, ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আর্থিক সংকটের কারণে কারখানাটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) কারখানাটির একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় তাদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারও বাবা নেই, কারও স্বামী নেই, আবার কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কাজ হারিয়ে এসব পরিবারের আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, কয়েক মাস ধরে অনেকের ঘরে ঠিকমতো দুবেলা খাবারও জুটছে না। পুরুষ শ্রমিকদের কেউ কেউ বিকল্প কাজ পেলেও নারী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনো কর্মহীন। বিশেষ করে যুবতী ও মধ্যবয়সী নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সোনাপুর এলাকার শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, পুরুষ শ্রমিকদের অনেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ পেলেও নারী শ্রমিকরা কোথাও কাজ পাচ্ছেন না। বিসিক শিল্পনগরীতেও যোগাযোগ করে কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বিধবা কিংবা একার আয়ে চলা নারীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম, হাবিবুর রহমান ও মানিক হোসেন বলেন, শ্রমিকদের অনেকেই জমানো সামান্য টাকা দিয়ে এতদিন সংসার চালিয়েছেন। কিন্তু এলাকায় নতুন কাজের সুযোগ সীমিত। যেসব কাজ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেও মজুরি তুলনামূলক কম। ফলে কারখানার শ্রমিকদের পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়েছে।
এদিকে কারখানাটির স্বত্বাধিকারী টিপু সুলতান ও সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) বিপ্লব পাল বলেন, গত ২০ বছর ধরে লাভ-ক্ষতির হিসাব মিলিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে তারা সংকটে পড়েছেন।
তারা বলেন, ‘সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, ব্যাংকিং সুবিধা পুনরুজ্জীবিত করে লে-অফ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।’
কারখানাটি পুনরায় চালুর জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মারুফ বিন জাকারিয়া।
তিনি বলেন, ‘হাজারো পরিবারের সচ্ছলতা এই কারখানার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এটি বন্ধ হওয়ায় একটি বড় জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়েছে। কর্মসংস্থান রক্ষায় সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ব্যাংক সুবিধাজনিত সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মালিকপক্ষ কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
দীর্ঘদিনের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, তাদের ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : info@risingcumilla.com, বিজ্ঞাপন: risingcumillaofficial@gmail.com, নিউজরুম: news.risingcumilla@gmail.com © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC