মঙ্গলবার ৩ মার্চ, ২০২৬

যে ৫ প্রাণীর দেখা মেলে কেবল শীতেই

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla -Guest bird Siberian crane
অতিথি পাখি সাইবেরিয়ান ক্রেন/ছবি: সংগৃহীত

শীতের আগমন মানেই শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং পৃথিবীর এক অংশে প্রাণীকুলের আচরণেও আসে পরিবর্তন। বরফে ঢাকা টুন্ড্রা, জমে যাওয়া নদী আর কুয়াশার চাদরে মোড়া পাহাড় সব মিলিয়ে শীত এমন এক জাদুকরী পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে প্রকৃতির কিছু গোপন রহস্য উন্মোচিত হয়।

গ্রীষ্মকালে যেসব প্রাণীকে সচরাচর দেখা যায় না, কিংবা দেখা গেলেও তাদের রূপ ও আচরণ থাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, শীতকালে তারাই হয়ে ওঠে প্রকৃতির প্রধান আকর্ষণ। এই মৌসুমে এমন কিছু বিরল প্রাণীর দেখা মেলে, যাদের উপস্থিতি প্রকৃতিকে করে তোলে আরও রহস্যময়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শীতের জাদুকরী আবহে দৃশ্যমান এমন ৫টি অসাধারণ প্রাণী সম্পর্কে।

১.অতিথি পাখি সাইবেরিয়ান ক্রেন (Siberian Crane):

হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শীতের সময় এই অসাধারণ পাখিটি চলে আসে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে। আমাদের দেশে এরা ‘অতিথি পাখি’ হিসেবে পরিচিত। বরফে ঢাকা সাইবেরিয়া থেকে উড়ে এসে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনামূলক উষ্ণ পরিবেশে শীত কাটিয়ে বসন্তে এরা আবার ফিরে যায়। প্রতিবছর এই পাখিদের আগমন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ উৎসবে পরিণত হয়।

২. রূপবদলকারী আর্কটিক ফক্স (Arctic Fox):

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে আর্কটিক ফক্স। শীতকালে এই প্রাণীটির রূপান্তর এক কথায় বিস্ময়কর। বছরের অন্য সময় এদের লোম বাদামি বা ধূসর থাকলেও, শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা বরফের মতো সাদা হয়ে যায়। এই পরিবর্তন কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং টিকে থাকার কৌশল। সাদা রং তাদের বরফের মাঝে অদৃশ্য করে রাখে, যা শিকার ধরা এবং শিকারির হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। শীতের বিশাল প্রান্তরে এদের ছুটে বেড়ানো দৃশ্য সত্যিই মনমুগ্ধকর।

৩. মায়াবী হার্প সিল (Harp Seal):

শীতের আরেকটি অনন্য দৃশ্য হলো হার্প সিলের বাচ্চাদের উপস্থিতি। আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের বরফ ঢাকা অঞ্চলে শীতকালেই এদের জন্ম হয়। জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ এই বাচ্চারা তুলোর মতো নরম সাদা লোমে আবৃত থাকে। ঠিক এই সময়টিতেই এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। কয়েক সপ্তাহ পর এই সাদা লোম ঝরে যায় বলে বছরের অন্য সময়ে এদের এই মায়াবী রূপে দেখা অসম্ভব। প্রকৃতির এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে আলোকচিত্রীরা শীতকালে আর্কটিক অঞ্চলে ভিড় করেন।

৪. কিংবদন্তি স্নোয়ি আউল (Snowy Owl):

তুষারের মতো ধবধবে সাদা রং, বিশাল ডানা আর বুদ্ধিদীপ্ত চোখের এই পাখিটি শীতের এক অনন্য বার্তাবাহক। আর্কটিক টুন্ড্রার বাসিন্দা এই সাদা পেঁচা সাধারণত উত্তর গোলার্ধের অত্যন্ত শীতল স্থানেই বসবাস করে। তবে শীতে যখন সেখানে তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দেয়, তখন এরা খাদ্যের সন্ধানে দক্ষিণ দিকে পাড়ি জমায়। এ সময় উত্তর আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপের কিছু অংশ এবং কখনো কখনো ভারতের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলেও এদের দেখা পাওয়া যায়। শীতই হলো এই অসাধারণ পাখিটিকে দেখার একমাত্র ও সেরা সুযোগ।

৫. হিমালয়ের পাহাড়ি রেড ফক্স (Mountain Red Fox):

হিমালয়ের বুকে দেখা মেলে পাহাড়ি রেড ফক্সের। বছরের বেশিরভাগ সময় এরা অনেক উঁচুতে বসবাস করলেও, শীতকালে এরা নিচে নেমে আসে। এ সময় উঁচু পাহাড়ে তুষারপাত বাড়লে খাবারের সন্ধানে ও তুলনামূলক কম শীতের আশায় এরা ভ্যালি বা উপত্যকায় চলে আসে। তখন মানুষের বাসযোগ্য এলাকার কাছাকাছি এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাই শীতকালই হলো এই পাহাড়ি শিয়াল দেখার উপযুক্ত সময়।

শীতকাল প্রকৃতির বুকে এক আলাদা জগত উন্মোচন করে। মানুষের চোখের আড়ালে থাকা স্নোয়ি আউল, আর্কটিক ফক্স, হার্প সিল, সাইবেরিয়ান ক্রেন এবং রেড ফক্সের মতো প্রাণীরা এই সময়েই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এই পাঁচটি প্রাণী যেন শীতের রূপকথাকে বাস্তবে রূপ দেয়। যারা প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী ভালোবাসেন, তাদের কাছে শীতকালে এই বিরল প্রাণীদের দেখা পাওয়া প্রকৃতির তরফ থেকে পাওয়া এক বড় উপহার।

 

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুন