
বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, জনগণের পাশে থাকার কারণে তিনি শত প্রতিকূলতার মাঝেও নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর নির্বাচনে দাঁড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো: “৫২-এর ভাষা আন্দোলন কোনো নেতা বা জমিদারের উদ্যোগে হয়নি। আন্দোলন করেছিলেন কিছু ছাত্র এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম।”
রুমিন আরও বলেন, তাদের আত্মত্যাগের ফলে ভাষা আন্দোলন সফল হয়। একইভাবে, মহান মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিজয় আসে। তিনি উল্লেখ করেন, যুগে যুগে সাধারণ মানুষের চাওয়া বাস্তবায়িত হয়েছে, যেমন ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান। তিনি বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ তাঁর বাইরের কোনও দলের নেতাকে দেখেনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, “যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি; এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছে আমি। আমি কোনো দলের বা স্বার্থান্বেষী মহলের নয়, বরং আমার মাটির মানুষের আপন। তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি আমার জীবনকে বাজি ধরেছি।”
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে নিজের বাসভবনের সামনে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, যারা কিছুদিন আগে লুকিয়ে ছিলেন এবং খুঁজে পাওয়া যেত না, তারা এখন তাঁর নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, “১৫ মাসে এত চর্বি হয়েছে যে, আমার নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করব, আমার কোনো নেতাকর্মীর গায়ের একটা পশম ধরার কেউ সাহস করলে তার জবাব দিতে হবে।”
রুমিন আরও বলেন, তিনি শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী প্রশাসনকেও কখনো ভয় পাননি। তিনি বিশ্বাস করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “ব্যালটবাক্স ভরে কোনো বিশেষ মার্কাকে জয়ী করার সুযোগ নেই। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর যে কোনো প্রকার হুমকির আগে আমাকে জবাব দিতে হবে।”
নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের শেষে প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষজন। দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এবং পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।









