
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

একসময় হাওর-বিলের মাছই ছিল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পশুখালী গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। বর্ষা এলেই জালসহ নানা মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে হাওর-বিলে ব্যস্ত হয়ে উঠতেন স্থানীয়রা। তবে সময়ের সঙ্গে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য কমে যাওয়ায় বদলে গেছে তাদের জীবিকার চিত্র। মাছের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন অনেক পরিবার হাঁস পালন ও ডিম বিক্রির মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছে।
পশুখালী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে বর্তমানে ছোট-বড় হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরাই এসব হাঁসের পরিচর্যা করছেন। প্রতিদিন হাঁসের ডিম সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আয় করছেন তারা। এতে অনেক পরিবারের সংসারে এসেছে বাড়তি স্বচ্ছলতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও হাওর-বিলে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যেত। এখন মাছের পরিমাণ দিন দিন কমছে। বিশেষ করে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি আগের মতো চোখে পড়ে না। ফলে মাছ ধরে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
পশুখালী গ্রামের হাঁস পালনকারী আবু তাহের বলেন, ‘হাওরে মাছ আগের মতো নেই। মাছ ধরার ওপর নির্ভর করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। তাই হাঁস পালন শুরু করেছি। হাঁসের ডিম বিক্রি করে প্রতিদিন কিছু আয় হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ মেটাতে সুবিধা হচ্ছে।’
স্থানীয়দের মতে, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে হাঁসের খাবারের দাম, রোগবালাই ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে অনেক খামারিকে সমস্যায় পড়তে হয়। সরকারি বা বেসরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, হাঁসের টিকা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, একদিকে হাঁস পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলোর বিকল্প আয়ের সুযোগ বাড়ানো হবে, অন্যদিকে হাওর-বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দেশীয় মাছের আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে পশুখালীসহ হাওরপাড়ের মানুষের জীবিকা ও জীববৈচিত্র্য—দুটিই রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC