
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘ সময় কাটালেও ভবিষ্যতে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিডি ক্রিকটাইম–কে দেওয়া এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সুযোগ এলে আগামী দিনগুলোতে তিনি আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নিজের জন্মস্থান মাগুরা থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান এই তারকা ক্রিকেটার।
সাকিবের এই বক্তব্য ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ক্রিকেটীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে নানা সংকটের মুখে পড়লেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি যে আত্মবিশ্বাসী, তারই প্রতিফলন মিলেছে তার বক্তব্যে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। ওই নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ভোট। তবে একই বছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।
সরকার পতনের সময় সাকিব দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে তাকে তীব্র সমালোচনা ও জনরোষের মুখে পড়তে হয়। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, নির্বাচন কেন করব না? নির্বাচন তো করবই। এটা নিয়ে আমার মনে কোনো সংশয় নেই। ইনশাআল্লাহ, আমি আমার জন্মস্থান মাগুরা থেকেই নির্বাচনে লড়ব। মাগুরার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জন্য কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।’
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে মাঠের ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রাখার ব্যাপারে তিনি যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তারই ইঙ্গিত দিয়েছে এই বক্তব্য।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, চলমান আইনি জটিলতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝেই সাকিব আল হাসানের এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশের অসন্তোষ সত্ত্বেও নির্বাচনে ফেরার ঘোষণা দেওয়া একটি সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
তবে দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাকিবের এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তার এই অবস্থান ভক্তদের পাশাপাশি মাগুরার সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।










