
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক
সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোর থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটগ্রহণে জালিয়াতি ঠেকাতে ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হচ্ছে। এই কালি প্রথমে গাঢ় রঙের থাকলেও কিছু সময়ের মধ্যে নীলচে হয়ে যায় এবং সাবান, তেল বা অন্য কিছু দিয়ে ঘষলেও সহজে উঠে না।
ভোটের কালি নিয়ে অজুর বিধান
অনেকে জানতে চান, আঙুলে এই কালি লাগানো অবস্থায় অজু-গোসল শুদ্ধ হবে কি না।
ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, অজু বা গোসলের সময় শরীরের যে অংশ ধোয়া ফরজ, সেখানে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন কোনো প্রলেপ বা আবরণ থাকলে অজু শুদ্ধ হয় না।
কিন্তু নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালি চামড়ার ওপর কোনো আবরণ তৈরি করে না; বরং এটি চামড়ার ভেতরে শোষিত হয়ে যায়। ফলে কালি সহজে উঠানো না গেলেও অজুর সময় পানি চামড়ায় পৌঁছাতে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না।
অতএব, এ কালি হাতে নিয়ে অজু-গোসল করা এবং নামাজ আদায় করা জায়েজ।
তবে যদি কোনো কারণে কালি চামড়ার ওপর দৃশ্যমান প্রলেপ সৃষ্টি করে, তাহলে যথাসম্ভব তা তুলে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। অতিরিক্ত চেষ্টা করেও যদি তা দূর করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওই অবস্থাতেই অজু-গোসল করে নামাজ আদায় করা যাবে। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৪)
কালিতে ব্যবহৃত উপাদান
এই অমোচনীয় কালির প্রধান উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট (Silver Nitrate বা AgNO₃)—রুপোর একটি রাসায়নিক যৌগ। আঙুলে লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই এটি ত্বকের লবণের সংস্পর্শে এসে বিক্রিয়া করে এবং চামড়ার ভেতরে স্থায়ীভাবে বসে যায়।
রোদের আলো পড়লে এই বিক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়, ফলে কালি আরও গাঢ় ও স্থায়ী হয়। কালিতে সিলভার নাইট্রেট যত বেশি পরিমাণে থাকে, তত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দাগ স্থায়ী থাকে।
এ ছাড়া কালির মধ্যে অ্যালকোহল মেশানো থাকে, যার কারণে এটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। সাধারণত এই অ্যালকোহল হারাম উৎস থেকে তৈরি নয় বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গোপন রাসায়নিক উপাদান এতে সংযোজিত থাকে।
কীভাবে কাজ করে এই কালি?
কালি লাগানোর পর সিলভার নাইট্রেট আঙুলের চামড়ার প্রোটিনের সঙ্গে বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে যে দাগ সৃষ্টি হয়, তা সহজে মোছা যায় না। সূর্যালোক পড়লে দাগ আরও গাঢ় হয়ে চামড়ায় স্থায়ীভাবে বসে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কালি সাধারণত চামড়ার ওপর কোনো আবরণ তৈরি করে না। তাই এটি অজু-গোসলের ক্ষেত্রে শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে বাধা হিসেবে বিবেচিত হয় না।
কালি প্রস্তুতকারী সংস্থা
ষাটের দশকে ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি এই কালির ফর্মুলা ভারতের একটি সংস্থাকে প্রদান করে। মহীশূরের সেই কালি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড (MPVL)।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আজও কালির সম্পূর্ণ ফর্মুলা গোপন রেখেছে। সংস্থার অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া অন্যদের কাছেও এই গোপন তথ্য প্রকাশ করা হয় না।
ভোটারদের আঙুলে লাগানো অমোচনীয় কালি জাল ভোট প্রতিরোধের কার্যকর উপায়। এতে সিলভার নাইট্রেটসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকলেও এটি সাধারণত চামড়ার ওপর পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে না। ফলে এই কালি থাকা অবস্থায় অজু-গোসল ও নামাজ আদায় শরয়িভাবে শুদ্ধ হবে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC