শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৮ হাজার টন ডিজেল

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।

শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল গ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ১৭ এপ্রিল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ হাজার মেট্রিক টন এসে পৌঁছেছে।

এর আগে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে পাইপলাইনে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে।

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত রেলহেড অয়েল ডিপোর রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব জ্বালানি পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সরবরাহ করা হয়।

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম চালু হয়।

দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে। বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা সম্ভব হলেও চাহিদা অনুযায়ী এই পরিমাণ বাড়ানো যাবে। এমনকি এই পাইপলাইনের সক্ষমতা বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত।

এর আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি পৌঁছাতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত। পাইপলাইন চালুর ফলে এখন দ্রুত ও সহজে জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন