বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জোড়া খুন আতঙ্কে গ্ৰামবাসী, অপর দিকে চলছে লুটপাটের মহোৎসব

তোফাজ্জল মিয়া, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জোড়া খুনে আতঙ্কে গ্ৰামবাসী, অপর দিকে চলছে লুটপাটের মহোৎসব/ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই পরিস্থিতিতে পুরো এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত ১২ (জানুয়ারি) ধরমন্ডল এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মেম্বার এবং কুতুবউদ্দিনের গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে জিতু মেম্বার গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত খলিল মিয়া (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মারা যান।

খলিল মিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার গোষ্ঠীর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ কুতুবউদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা শাহীন মিয়া, আমির আলী, শিশু মিয়া, অলিল মিয়া, শাহ-আলম, ছোট্ট মিয়া ও নশাই মিয়ার বাড়িতে হামলা করে। এসময় বড় ধরণের অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ ঘটনায় এলাকার বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের বসতঘরে আগুন দিয়ে নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুট করেছে।

এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুব জানান, জিতু মেম্বার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সুবারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় মহিলা মেম্বার রাহেলা (৪৫) ও তার মেয়ে লাইজু বেগম (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম ভয়েস অফ ইনসাফ কে জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পৃথক হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন