বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বৃদ্ধ অসহায় “আমেনার জীবন” যেন যুদ্ধ গল্পকেও হার মানায়

সঞ্জয় শীল, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Rising Cumilla - The life of the helpless old man of Nabinagar, Brahmanbaria, Amena is as good as a war story
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বৃদ্ধ অসহায় "আমেনার জীবন" যেন যুদ্ধ গল্পকেও হার মানায়/ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের জল্লী-কান্দি গ্রামের অসহায় মা আমেনা খাতুন। মানসিক প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলে আল-আমিনের নেই রুটি-রোজগার। মাঝে-সাঁঝে দিন-মজুরের কাজ করলেও প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে না তার কোন কাজ। এছাড়া মানসিক সমস্যার কারনে কেউ তাকে কোন কাজেও নিতে চান না। মাঝে মধ্যে সেও কোথায় জানি উদাও হয়ে যান। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমেনা খাতুনের স্বামী আহসানউল্লাহ বয়সের বাড়ে নতজানু। আমেনা খাতুনের ভিক্ষার চালে চলে তাদের সংসার।

যৌবনে একমাত্র ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলেন। দিন দিন ছেলের মানসিক অবস্থা খারাপ হতে থাকলে বউও তাকে রেখে চলে যান অন্যত্র। জানা যায়, অভাবের কারনে অন্যের বাড়িতে থেকে কাজ করেন তার ছেলের বউ। আমেনা আর তার স্বামী আহসানউল্লাহ থাকেন ছোট্ট একটি ঘরে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি পাতিলে খোলা জায়গায় ভাতের সাথে শিম সিদ্ধ দিয়েছেন আমেনা খাতুন। সিদ্ধ শেষ হলেই খাবেন আমেনা খাতুন ও তার স্বামী। ভিক্ষা করতে গিয়ে পথের ধারের শিম গাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন শিম। তখনও বেলা প্রায় ৩ টা হয়ে গেছে। যে বাড়িটিতে উনারা বসবাস করছেন এটিতে থাকতে দিয়েছেন জায়গার মালিক। সহায়-সম্বল হিসেবে তাদের কেবল বেঁচে থাকা।

আমেনা খাতুন জানান, আমি গরীব মানুষ। পোলাডা পাগল। আমি এন বুড়া জামাইডারে লইয়া থাহি। গ্রাম গ্রাম ভিক্কা কইরা যে চাল ফাই, হিডা দিয়া খাই। শইল্ অ শক্তি নাই। অহন অত ঘুরতাম ফারি না। আইয়া রান্না করি, খাই। মাইনসের বাইত ছাড়া মাছ-মাংস খাইতাম ফারি না। মানুস অ দ আমরারে বালা মাছ-মাংস দে না। জেফত অইলে যদি জুডে। লবন দিয়া ভাত খাই বেশির ভাগ।

শ্যামগ্রাম টু বাঞ্ছারামপুর রোডের জল্লী-জীবনগঞ্জ লোহার ব্রীজের উত্তর পাশ দিয়ে খালের ধার ধরে কাদা মাটির পথ ধরে এগুলোই একটি ছোট্ট ভাঙ্গা টিনের ঘর। রান্না করেন খোলা জায়গায়। বাড়িটিতে গাছগাছালি ঘেরা। কোন হৃদয়বান-বিত্তবান যদি উনাদের সহযোগিতা করতে চান তাহলে সরাসরি কিংবা কোন মাধ্যমে চলে যেতে পারেন উনাদের কাছে। আশা করি, স্থানিয়দের কাছে জিজ্ঞাসা করলে দেখিয়ে দেবেন তাদেরকে।

আরও পড়ুন