মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উদ্যোক্তা কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ

সঞ্জয় শীল,নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Training to develop the skills of entrepreneurial farmers in Nabinagar, Brahmanbaria
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উদ্যোক্তা কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ/ছবি: প্রতিনিধি

নবীনগর উপজেলায় কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা কৃষকদের নিয়ে দু’দিন ব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ এবং ৮ জানুয়ারি উপজেলা কৃষি অফিসের কনফারেন্স রুমে নবীনগর উপজেলার ৩০ জন উদ্যমী তরুণ কৃষকদের নিয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়নে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং বাজারমুখী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, মানসম্মত বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা, মাটি স্বাস্থ্য রক্ষা, রোগবালাই দমন, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, ভ্যালু অ্যাডিশন এবং কৃষিপণ্য বিপণন কৌশল, মাশরুম চাষাবাদ, জৈবসার উৎপাদন, অসময়ের সবজি চাষাবাদ সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষিকে উদ্যোক্তাভিত্তিক করতে ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রণয়ন, খরচ-লাভ বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণে কার্যক্রম পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডঃ মোস্তফা এমরান হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ শাহআলম মজুমদার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার পরিমল চন্দ্র দত্ত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডঃ মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, তরুণ কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে কৃষকদের আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠবেন এবং কৃষিকে একটি লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা রাজিব বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও আয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, ভবিষ্যতেও কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রদর্শনী উপকরণ সামগ্রী দেওয়া হবে যাতে উৎসাহ নিয়ে কৃষি কার্যক্রম তরান্বিত করতে উৎসাহিত হয়। যা দেশের কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে কৃষকদের জৈবসার উৎপাদন, কোকেডাষ্টে চারা উৎপাদন, মাটি শোধন করানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি হাতেকলমে দেখানো হয়। এই ধরনের উদ্যোগ এই উপজেলার কৃষকদের মাঝে নতুন প্রাণোচ্ছল সৃষ্টি করবে বলে জানায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা।

আরও পড়ুন