
তোফাজ্জল মিয়া, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার আতুকোড়া গ্রামে দুইটি স্পট এবং ধরমন্ডল এলাকায় সরিষা ক্ষেতে মধু চাষের উদ্যোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০টি মৌবাক্স স্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কৃষক শেখ যোবায়ের জানান, চলতি মৌসুমে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ থেকে ১২৫ মণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, তারা বিসিকের মাধ্যমে মৌচাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং মৌমাছি বা রাণী মারা গেলে কিংবা রোগে আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা মৌবাক্সে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর পরিবেশ। মৌচাষ সংশ্লিষ্টরা জানান, মধু উৎপাদনের পাশাপাশি এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুফল হলো কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নতি। মধু বিক্রির মাধ্যমে কৃষক ও মৌচাষিরা অতিরিক্ত আয় করতে পারছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাসরিন বলেন, মধু চাষের মাধ্যমে কৃষকরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে এবং কৃষি অফিসকে কৃষকদের পাশে থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন খামার পরিদর্শন করেছেন এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কৃষি অফিস থেকে ৫০টি মৌবাক্স তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পৌঁছে যাওয়ায় সরিষার ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এই পদ্ধতিতে সরিষার উৎপাদন সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। ফলে একই জমিতে চাষ করেও কৃষকেরা অধিক উৎপাদন পাচ্ছেন।
উৎপাদিত মধু স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এই মধু দেশের বিভিন্ন জেলায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় সরিষা চাষি শেখ সোবহান ও আউয়াল মিয়া জানান, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষার উৎপাদন আরও বাড়বে—এই আশাই তাদের নতুন করে উৎসাহিত করছে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC