
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দ্বিতীয় দিনে অবশিষ্ট তিনটি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দ্বিতীয় ধাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) — এই তিনটি আসনের মোট ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
যাচাই-বাছাই শেষে ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। ভোটার তালিকায় প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাদের প্রার্থীতা বাতিল হয়।
প্রার্থীতা বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন—
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের নাসির উদ্দিন হাজারী,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের মুসা সিরাজী এবং
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সদ্য বহিষ্কৃত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ, শাহমুর্তুজ আলী, মো. আবু কায়েস শিকদার, কাজী জমির উদ্দিন ও দেওয়ান মো. নাজমুল হুদা।
অন্যদিকে যাচাই-বাছাইয়ে এ তিনটি আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জোট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট দল ও জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী— বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভুইয়ার মনোনয়নও বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রার্থীসহ তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এ সময় প্রার্থীরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমীন জাহান আক্তার জানান, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘণ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।









