
সঞ্জয় শীল, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শীত শেষ না হতেই বসন্তের আগমনের আগে মলয়া বাতাস আর চড়া রোদে সর্ষে ফুলের ঘ্রান ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। সর্ষের হলুদ রঙ আরো হলদে হয়ে হাতছানি দেয়। এরই মাঝে উপজেলা জুড়ে শুরু হয়েছে মৌচাষিদের ব্যস্ততা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসে উপজেলার একাধিক সর্ষে ফুলের মাঠে মধু সংগ্রহের বক্স নিয়ে হাজির মৌচাষীরা। শুধু সর্ষে ফুলের মধুই নয় ধনিয়া, মূলা ফুলের মধুও মৌমাছিদের মাধ্যমে ভর্তি হচ্ছে বক্স।
বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এই দুই মাস উত্তরবঙ্গ থেকে কিছু মৌচাষী সরিষা-ধনিয়া ফুলের নির্যাস থেকে মৌ সংগ্রহ করতে আসে। বিশেষ করে রছুল্লাবাদ, শ্যামগ্রাম, রতনপুর, শিবপুর, শ্রীরামপুর ইউনিয়নে প্রায় ২২০০ থেকে ২৫০০ বক্স সরিষা-ধনিয়ার মাঠে বসে।
উপজেলাবাসী প্রাকৃতিক এই মধু সংগ্রহ করতে পারেন ও নিজেরাও উদ্যোক্তা হতে সরেজমিনে প্রশিক্ষণ নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানিয় কৃষি অধিদপ্তর কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা জানান, নবীনগর উপজেলায় মৌ চাষের জন্য দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলায় সরিষা এবং ধনিয়ার মৌসুম প্রায় ৩ মাস, তাছাড়া ধৈঞ্চা থেকে মৌ সংগ্রহ করা যায়। বছরে অন্তত ৪ মাস প্রাকৃতিক নির্যাস সংগ্রহের সুযোগ আছে, বাকি সময়টা কৃত্রিম সিরা তৈরি করে কলোনি ধরে রাখা যায়। ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়!
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, মৌমাছি শুধু ফুলের নির্যাস থেকে মধু সংগ্রহই করে না, একই সঙ্গে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। ফলে একদিকে কৃষকের ফসল উৎপাদন বাড়ে, অন্যদিকে মধু উৎপাদনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি হয় অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ। তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মৌচাষ সম্প্রসারণে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও প্রণোদনা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC