
বিদেশ ভ্রমণ অনেকের কাছেই জীবনের বড় স্বপ্ন। নতুন দেশ, নতুন অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে উত্তেজনার শেষ নেই। তবে এই স্বপ্নযাত্রার সবচেয়ে স্পর্শকাতর মুহূর্তটি আসে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও সামান্য অসচেতনতা, ভুল উত্তর বা অপ্রয়োজনীয় কথা যাত্রীর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। যাত্রীর কথাবার্তা, আচরণ, দ্বিধা কিংবা বক্তব্যের অসঙ্গতি খুব দ্রুতই তাদের নজরে আসে। ফলে ভুল সময়ে ভুল কথা বললে প্রবেশ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যেতে পারে, অপ্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হতে পারে, এমনকি চরম ক্ষেত্রে দেশে ফেরত পাঠানোও সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও ভদ্রভাবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বা অস্পষ্ট মন্তব্য এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। বিশেষ করে প্রথমবার বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।
এই প্রেক্ষাপটে ইমিগ্রেশনের সময় ভুলেও না বলার মতো ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরা হলো—
১. ‘আমি জানি না কোথায় থাকব’
থাকার জায়গা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে বড় সন্দেহের কারণ হতে পারে। তাই হোটেল বুকিং, এয়ারবিএনবি ঠিকানা অথবা আত্মীয়ের বাসার বিস্তারিত তথ্য লিখিতভাবে সঙ্গে রাখা জরুরি। প্রয়োজনে ক্যানসেলযোগ্য বুকিং করলেও সেটি বৈধ প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায়।
২. ‘আমি এখানে কাজ করতে এসেছি’
ওয়ার্ক ভিসা ছাড়া কাজ করতে এসেছেন—এমন কথা বলা মারাত্মক ভুল। এতে ভিসা বাতিল এমনকি ভবিষ্যতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যদি ব্যবসায়িক সফরে যান, তবে পরিষ্কারভাবে বলুন যে আপনি মিটিং, সেমিনার বা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এসেছেন।
৩. ‘আমি শুধু অনলাইনে পরিচিত এক বন্ধুকে দেখতে এসেছি’
শুনতে নিরীহ মনে হলেও এই বক্তব্য ইমিগ্রেশনে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এমন সম্পর্ক নিয়ে কর্মকর্তারা বাড়তি সন্দেহ পোষণ করেন। তাই বলুন আপনি কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন এবং তাদের সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য প্রস্তুত রাখুন। প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য না দিয়ে সংক্ষেপে উত্তর দিন।
৪. ‘আমার ফিরতি টিকিট নেই’
ফিরতি টিকিট না থাকলে কর্মকর্তারা ধরে নিতে পারেন যে আপনি দেশটিতে অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাই অন্তত একটি রিফান্ডযোগ্য ফিরতি টিকিট সঙ্গে রাখা নিরাপদ। এটি আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
৫. ‘আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে নেব’
ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে এমন অস্পষ্ট মন্তব্য আপনার অপ্রস্তুতিকে প্রকাশ করে। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও অন্তত একটি সাধারণ রূপরেখা দিন—কোন শহরগুলোতে যাবেন, কী ধরনের ভ্রমণ করবেন বা প্রধান গন্তব্য কী।
৬. মাদক, বোমা বা অপরাধ নিয়ে মজা
ইমিগ্রেশন এলাকায় এ ধরনের শব্দ নিয়ে মজা করা মারাত্মক ভুল। মজা করেও এসব শব্দ উচ্চারণ করলে তা গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন।
৭. ‘আমার কাছে যথেষ্ট অর্থ নেই’
নিজের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ইমিগ্রেশনে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড এবং প্রয়োজনে নগদ অর্থ সঙ্গে রাখুন। এগুলো প্রমাণ করে যে আপনি ভ্রমণের খরচ বহনে সক্ষম এবং গন্তব্য দেশের ওপর বোঝা হবেন না।
ভুল কথা বললে কী হতে পারে?
ইমিগ্রেশনে ভুল উত্তর মানেই সঙ্গে সঙ্গে ফেরত পাঠানো—এমনটি নাও হতে পারে। তবে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠানো, লাগেজ তল্লাশি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা ভিসা বাতিলের মতো সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমিগ্রেশনে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হলো—কথার স্পষ্টতা, সঙ্গতি ও আত্মবিশ্বাস। তাই সব সময় সত্য বলুন, তবে অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলুন।
সূত্র : এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া










