শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিএনপি-জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত—বলছে নতুন জরিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - BNP-Jamaat
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে এক প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, বিএনপির সম্ভাব্য ভোট ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ভোট ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের ব্যবধান মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ।

জরিপে আরও দেখা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের আস্থা অর্জন করেছে।

সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপটি পরিচালনা করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি)’। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ‘প্রজেকশন বিডি’, ‘জাগরণ ফাউন্ডেশন’ ও ‘ন্যারেটিভ’।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত মোট ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন।

আইআইএলডির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে বিএনপির ভোট ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীর ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত ভোট ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপে সমর্থনের পেছনের কারণও তুলে ধরা হয়। বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ৭২ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, দলটির অতীত শাসন-অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাই তাদের সমর্থনের প্রধান কারণ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের বড় অংশ দলটির তুলনামূলক কম দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ও সততাকেই সমর্থনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জরিপে দেখা যায়, জামায়াতের ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ সমর্থক দলটিকে ‘কম দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ ‘সততার ভাবমূর্তি’র কারণে সমর্থন করেন।

নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সমর্থনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দলটির ভূমিকা। এনসিপির ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থক এ কারণেই দলটির প্রতি আস্থা রেখেছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে ১৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন বলে জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের মধ্যে ৩০ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। আর ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার এ বিষয়ে কোনো মতামত দিতে রাজি হননি। জরিপ সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গেমচেঞ্জার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মুশতাক খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের ডিন একেএম ওয়ারেসুল করিম এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুরসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।

আরও পড়ুন