
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক
দেশে দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। জনসংখ্যার বয়স কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত তুলনামূলক বেশি থাকলেও আগামী কয়েক দশকে এ চিত্র বদলে যাবে। ২০৫১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীণপ্রধান সমাজে প্রবেশ করতে পারে। তখন দেশের মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ হবেন প্রবীণ নাগরিক। ফলে তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা এবং বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এ পরিস্থিতিতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বর্তমান জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ জনমিতিক পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছুটা বেশি সময় পেলেও এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর থেকে এ হার কমতে শুরু করবে। ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া প্রবীণপ্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তখন অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৫১ সাল।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১৭ কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসবে।
বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনো প্রায় দুই দশক সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে জনমিতিক সুবিধাকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় মূল কর্মক্ষম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্রমবর্ধমান হার প্রতিবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ০.৪ শতাংশ অবদান রেখেছে। একই সময়ে শ্রম উৎপাদনশীলতা বেড়েছে ১.১ শতাংশ।
তবে জনসংখ্যার এই ইতিবাচক অবদান আগামী দিনগুলোতে ধীরে ধীরে কমে আসবে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জনমিতিক পরিবর্তনের অবদান কমে মাত্র ০.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
এ অবস্থায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বর্তমান সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : info@risingcumilla.com, বিজ্ঞাপন: risingcumillaofficial@gmail.com, নিউজরুম: news.risingcumilla@gmail.com © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC