
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

অনেক সময় আমরা এমন কিছু অদৃশ্য সমস্যার সম্মুখীন হই, যা চিকিৎসা বা সাধারণ উপায়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো বদনজর এবং কালো জাদু। হিংসা বা ঈর্ষার কারণে মানুষের দৃষ্টির আঘাত বা বদনজরের ঘটনা যেমন বাস্তব, তেমনি কারও ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে কালো জাদু করা ও সত্য। ইসলাম ধর্মে এটি গুরুতর গোনাহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
দুনিয়ার জীবনে অনেক সময় মানুষ হিংসা-ঈর্ষার কারণে অন্যের ক্ষতি চায়। এর ফলে কেউ বদনজরের শিকার হয়, আবার কেউ কেউ সীমা লঙ্ঘন করে কালো জাদুর মতো ভয়াবহ ও গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়। মনে রাখতে হবে, বদনজরের প্রভাব বাস্তব, আর কালো জাদুর আশ্রয় নেওয়া ইসলাম অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বদনজর লাগা সত্য।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭৯)
অন্যদিকে খোদ নবীজি (সা.) জাদু করার মতো ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, “সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে।” এ কথা শুনে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সেগুলো কী?
জবাবে রাসুল (সা.) বললেন—
১. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা
২. জাদু করা
৩. আল্লাহ তা’য়ালা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়ত সম্মত ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা
৪. সুদ খাওয়া
৫. ইয়াতিমের সম্পদ গ্রাস করা
৬. রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া
৭. সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৭৮)
কালো জাদু চেনার কিছু লক্ষণ:
প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ কালো জাদু চেনার জন্য কয়েকটি প্রধান লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী—
কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসা বা ট্রিটমেন্টে কাজ না করা
অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেওয়া
ঘুমের মধ্যে প্রচুর খাওয়ার অভ্যাস থাকা
অতিরিক্ত ঘুম আসা
হঠাৎ হাই বা অস্বাভাবিক উদ্দীপনা দেখা দেওয়া
তার মতে, এসব লক্ষণ থাকলে কালো জাদুর সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এর বাইরেও আরও কিছু আলামত থাকতে পারে।
জেনে নেনি কালো জাদুর ক্ষতি থেকে বাঁচার ৫ আমল:
১. সকাল-সন্ধ্যার দোয়া
উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না।
দোয়া:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।
অর্থ: আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যার নামের বরকতে ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (তিরমিজি: ৩৩৮৮)
২. আরেকটি দোয়া
দোয়া:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিনশাররি মা খালাকা।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এই দোয়াটি সন্ধ্যার সময় পড়লে ওই রাতে কোনো সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি কষ্ট দিতে পারে না। (তিরমিজি: ৩৪৩৭)
৩. ঝাড়-ফুঁকের দোয়া
জাদুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে জিবরাইল (আ.) নবীজিকে (সা.) এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়েছিলেন।
দোয়া:
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইয়্যুজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।
অর্থ: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি, সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (মুসলিম: ২১৮৬, তিরমিজি: ৯৭২)
৪. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস
সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা। এসব সুরা বদনজর ও অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য খুবই উপকারী।
৫. সুরা ফাতিহা
সুরা ফাতিহার আরেক নাম সুরা শিফা, অর্থাৎ আরোগ্য লাভের সুরা। তাই অসুস্থতা বা অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য এই সুরা পাঠ করাও উপকারী।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC