
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রান্নাঘর স্থাপনসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ঘটনায় দুই সিনিয়র স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নার্সরা হলেন— নর্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী মন্ডল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স রানী বালা হালদার।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অবস্থিত অপারেশন থিয়েটারের অভ্যন্তরে গ্যাসের চুলায় রান্না করার মতো চরম দায়িত্বহীন, শৃঙ্খলাবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হলে জনস্বাস্থ্য, রোগীর নিরাপত্তা এবং নার্সিং পেশার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়।
আদেশে আরও বলা হয়, এই ধরনের কর্মকাণ্ড হাসপাতালের সংবেদনশীল অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ, রোগীর নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থি। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নার্সিং পেশার পেশাগত মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, কল্পনা রানী মন্ডল ও রানী বালা হালদার ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে অপারেশন থিয়েটারের সার্বিক শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও পেশাগত মান রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
তবে তারা এই অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হন। তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত। এজন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী বিধি ১২(১) অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুকরণের স্বার্থে এবং মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আদেশ জারির তারিখ থেকে কল্পনা রানী মন্ডল ও রানী বালা হালদারকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে বিধি অনুযায়ী তারা খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হাসপাতালে কর্মরত আরও কয়েকজন নার্স ও চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ থাকলেও আলোচিত ভিডিওতে দৃশ্যমান হওয়া মাত্র দুই নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সেবা গ্রহীতারা।
সেবাগ্রহীতা মাহবুবুর রহমান বলেন, “দুই বছর ধরে স্পর্শকাতর এমন একটি জায়গায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চললেও কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করেছে। সর্বশেষ গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর শুধুমাত্র ছবি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নার্সদের পাশাপাশি গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরাও জড়িত। এমন দায়সারা ব্যবস্থায় তদন্ত কমিটির প্রকৃত প্রতিবেদন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “দুইজন নার্সের সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”









