বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফেনীর ফুলগাজীতে মাদ্রাসায় তালা, শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla -Feni District Map
ফেনীর মানচিত্র/রাইজিং কুমিল্লা গ্রাফিকস

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাটে অবস্থিত ‘আমজাদহাট দারুল কুরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায়’ তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমজাদহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আহমদ হোসাইন মারধরের শিকার হয়ে আহত হন।

জানা যায়, মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা আবদুল আউয়াল হুজুর অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদ্রাসার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী রশিদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে। রশিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিমের দায়িত্ব দেন আউয়াল হুজুরের সন্তান হাফেজ আবদুল্লাহর নিকট।

পরবর্তীতে হাফেজ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে বহিষ্কার করে রশিদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে একটি বৈঠকের মাধ্যমে নতুন মুহতামিমের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।

সবশেষ গতকাল সোমবার রাতে ৫০–৬০ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। তারা এতিমখানার শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে মাদ্রাসায় তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আহমদ হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা অফিস কক্ষে তালা দেয় এবং একে একে মাদ্রাসার সব কক্ষে তালা লাগিয়ে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের চলে যেতে বলে।

ঘটনার পরপরই ৯৯৯ নম্বরে কল করে ফুলগাজী থানা পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। রাতেই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে জানান,“বিএনপি নেতা টিপুর নেতৃত্বে একদল যুবক মাদ্রাসায় হামলা চালায়। সেখানে হাফেজ আবদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আমাদের একজন শিক্ষককে মারধর করা হয়।”

আরেক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতকাল রাতে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। মাদ্রাসা এখনো তালাবন্ধ আছে। হামলার সময় বিএনপি নেতা টিপু উপস্থিত ছিলেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমজাদহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, “এটা ভাইদের মধ্যকার ঝামেলা। আমি এসবের সঙ্গে ছিলাম না। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।”

ফুলগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯ নম্বারে কল পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। তখন মাদ্রাসাটি তালাবন্ধ ছিল। মূলত কমিটি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত।”

এদিকে মাদ্রাসায় তালা দেওয়ার ঘটনা চারদিকে জানাজানি হলে একপর্যায়ে শনিবার দুপুরে তালা খুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন