
প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত ফেনী। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই জনপদের লাখো মানুষ পাঠাচ্ছেন কষ্টার্জিত অর্থ। সেই রেমিট্যান্সই বদলে দিয়েছে জেলার চেহারা—গড়ে উঠেছে দালানকোঠা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। আর রমজান ও ঈদ এলে এই অর্থপ্রবাহ যেন পায় নতুন গতি।
ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে হাসি ফোটে দেশে থাকা স্বজনদের মুখে। তবে এবার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শঙ্কায় ফেলেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
আলো ঝলমলে ফেনী শহর, বিপণিবিতানগুলোতে কোলাহল—এসব কিছুর নেপথ্যে রয়েছে প্রবাসীদের অবদান। তাদের ঘামঝরা কষ্টার্জিত অর্থেই দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের মুখে ফুটছে ঈদের হাসি।
ফেনীতে সারা বছরই রেমিট্যান্স এলেও ঈদকে ঘিরে তা বেড়ে যায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসীরা পাঠান বাড়তি টাকা। ঈদের পোশাক, জাকাত-ফিতরা, আত্মীয়-স্বজনকে উপহার—সবকিছুতেই ভরসা সেই প্রবাসী আয়ের ওপর।
শহরের গার্ডেন সিটিতে ঈদের বাজার করতে আসা প্রবাসীর স্ত্রী আফসানা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, স্বামী প্রবাস থেকে কষ্ট করে টাকা পাঠানোর কারণেই সন্তানসহ পরিবারের জন্য ঈদের বাজার করতে পারছেন তিনি।
প্রবাসী তৌফিকের সন্তানও বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, বাবার পাঠানো টাকার কারণেই তাদের মুখে ঈদের হাসি ফুটছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঈদ বাণিজ্য নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলার ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রবাসীদের স্বজনদের মুখেও।
শুধু পরিবার নয়, ঈদকেন্দ্রিক এই অর্থপ্রবাহে চাঙা হয়ে ওঠে স্থানীয় সামগ্রিক অর্থনীতি। ব্যাংকগুলোতেও দেখা যাচ্ছে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। চলতি মাসে রেমিট্যান্স ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও এবারের ঈদেও রেমিট্যান্স বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যবস্থাপক শহীদুল আলম বলেন, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। প্রবাসীরা চেষ্টা করেন অন্তত এই মাসে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি টাকা পাঠাতে।
একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তা দিদার মিয়া। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই জেলা থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৪৩ জন বিদেশে গেছেন। রেমিট্যান্স প্রবাহে দেশের মধ্যে ফেনীর অবস্থান ষষ্ঠ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু বৈধ চ্যানেলেই এই জেলায় এসেছে ৮৭৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত বছর ঈদের মাস মার্চে ফেনীতে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা পরের মাসের তুলনায় ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। চলতি রমজান মাসে এটি আরও বহুগুণে বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, বৈধ চ্যানেলের বাইরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পথেও প্রবাসী আয় আসে, যার পরিমাণ বৈধ চ্যানেলের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হতে পারে। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসায় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।







