
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ফেনীতে চলতি সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় থানায় ২৭টি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মলম পার্টির সদস্য, মাদক কারবারি, মাদকসেবী, চুরি ও ডাকাত চক্রের সদস্য এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে।
ফেনী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ অভিযানে শহরের স্টারলাইন বাস কাউন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে মলম পার্টির সদস্য লিটন মিয়া ওরফে সুমনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দক্ষিণ এলাইচ ডোমবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, মলম পার্টির সদস্যরা স্টারলাইন বাসে বিদেশফেরত যাত্রীদের কৌশলে চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে সর্বস্ব নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া মহিপাল থেকে লেমুয়া যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নকল সোনার বার দেখিয়ে চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে যাত্রীদের স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত ফেনী রেলস্টেশন, ব্রাহ্মণপুকুর পাড় ও সরকারি কলেজের পেছনের সড়ক এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—কুমিল্লার লাকসামের মো. শুকুর ওরফে কানা শুক্কুর (২৬), ফেনী পৌরসভার বিরিঞ্চি এলাকার মো. আব্দুল মমিন (৪৬) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির কাউছার হোসেন আশিক (২৩)। তাদের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরগামী একটি কাভার্ডভ্যান থেকে এক প্যাকেট অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্তে জাহাঙ্গীর আলম (৪১) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী এবং চোর-ডাকাত চক্রের সদস্যসহ মোট ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে শিগগিরই টাস্কফোর্স কাজ করবে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC