
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জেলার মাঠ পর্যায়ের শতাধিক ইমামকে নিয়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরতলীর ফতেহপুরস্থ জেলা মডেল মসজিদ কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মুহাম্মদ শামসুল আরেফিনের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল আহসান, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম, ফেনী আলীয়া মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ মাহমুদুল হক এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল জামে মসজিদের ইমাম আনাস বিন ইদ্রিস।
ফেনী আলীয়া মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাদ্য অত্যাবশ্যক, তেমনি বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণও সমভাবে জরুরি। পৃথিবীর অনেক দেশে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশেও সরকার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে এবং ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমামরা ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাজে নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরলে এটি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ সচেতন হলে তবেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। শুধু জরিমানা বা অভিযানের মাধ্যমে সরকারের একার পক্ষে এটি অর্জন করা কঠিন। একজন ভোক্তাকে যে কোনো পণ্য কেনার আগে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা, মূল্য ও মান যাচাই করে ক্রয় করা উচিত এবং ভেজাল খাদ্য বয়কট করতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল আহসান বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সমাজে ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমামরা সমাজের নৈতিক নেতৃত্ব দেন। কোন খাদ্য ভেজাল, কোন খাদ্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ—এ বিষয়গুলো কোরআন-হাদিসের আলোকে মসজিদে তুলে ধরলে সমাজে সচেতনতা তৈরি হবে এবং সরকারকে সহায়তা করবে। এজন্য ইমামদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন জরুরি।






