শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফেনীতে চালু হলো আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় কারাগার

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

Rising Cumilla -Feni Prison 2
ফেনীতে চালু হলো আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় কারাগার/ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে জেলার দ্বিতীয় এই কারাগারে চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়টি জেলা কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত মোট ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

জেল সুপার মো. দিদারুল আলম ও জেলার ফেরদৌস মিয়া ফেনী কারাগার-১ থেকে ২১ জনকে স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন কারাগারের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় বন্দীদের ফুল দিয়ে নতুন কারাগারে পাঠান জেল কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, পুরোনো জেলা কারাগার ভবনটিকেই সংস্কার করে ‘ফেনী কারাগার-২’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়টি জেলা কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে মোট ১৮০ জনকে ফেনী কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনী কারাগার-১ থেকে: ২১ জন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে: ২৬ জন, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে: ৭৪ জন, নোয়াখালী কারাগার থেকে: ১৫ জন, লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে: ১১ জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে: ৩৩ জন

ফেনী কারাগার-২ এ মোট ১৯টি পদে ৮৮ জন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে জেল সুপারসহ ৭৩ জন ইতোমধ্যে যোগদান করেছেন।

জেল সুপার মো. দিদারুল আলম জানান, ছয় জেলা কারাগার থেকে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ফেনীর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্য থেকে ফেনী কারাগার-১ থেকে ২১ জনকে আনা হয়েছে। বন্দিদের থাকার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে কারাগারের চারপাশের দেয়াল সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু করা ও কাঁটাতার লাগানোসহ কিছু কাজ বরাদ্দ পেলে সম্পন্ন করা হবে। বন্দিদের খাবার প্রস্তুতের জন্য কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রান্নার কাজে অভিজ্ঞ ২৪ জন বন্দিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীতে আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯১৫ সালে ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ায় দেড় একর জমির ওপর উপ-কারাগার হিসেবে প্রথম ফেনী কারাগার প্রতিষ্ঠিত হয়, যার বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে এটিকে জেলা কারাগারে উন্নীত করা হলেও এতে আধুনিক কোনো সুবিধা ছিল না। পরবর্তীকালে ১৯৯৬ সালে শহরতলীর কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ শুরু হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবন নির্মিত হয় এবং নতুন ওই কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৫০ জন। ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি সেখানে বন্দি স্থানান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন