শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা: চাঁদপুরে ১৩ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী, কেন্দ্র ২২টি

রাইজিং ডেস্ক

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা: চাঁদপুরে ১৩ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী, কেন্দ্র ২২টি/ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর জেলায় মোট ১ হাজার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৩ হাজার ৬৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৪৮ জন বালক এবং ৮ হাজার ১২০ জন বালিকা। এবারের পরীক্ষায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরীক্ষার্থীই বালিকা। জেলার মোট ২২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর সাথে কিন্ডারগার্টেন ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা যুক্ত করা হয়নি।

হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৭৯ জন। মোট ৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। হাজীগঞ্জ উপজেলা থেকে ৪০% হারে ১ হাজার ৮৩০ জন পরীক্ষা দেবে, যার মধ্যে বালক ৭৩০ জন এবং বালিকা ১ হাজার ১০০ জন। শাহরাস্তি উপজেলায় বালক ৪৮০ জন এবং বালিকা ১ হাজার ৩৪৯ জন।

কারা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে?

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালার অধীনে, সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে, প্রতিটি বিদ্যালয়ের শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির ৪০% শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করা হবে। অর্থাৎ, কোনো বিদ্যালয়ে যদি ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকে, তবে সর্বোচ্চ ৪০ জন এবং ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলে সর্বোচ্চ ২০ জন পরীক্ষা দিতে পারবে।

শিক্ষার্থীদের বাছাই করা হবে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার (প্রথম প্রান্তিক) ফলাফলের ভিত্তিতে। যারা মেধা তালিকায় প্রথম দিকে থাকবে, সেই ৪০% শিক্ষার্থীকে বাছাই করে রেজিস্ট্রেশন করানো হবে। এই নীতিমালা না মানলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

একইভাবে, ইবতেদায়ী মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০% পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

পরীক্ষার সময়সূচি ও বিষয়বস্তু

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।

  • ২১ ডিসেম্বর: বাংলা
  • ২২ ডিসেম্বর: ইংরেজি
  • ২৩ ডিসেম্বর: গণিত
  • ২৪ ডিসেম্বর: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান (একত্রে)

বাংলা, ইংরেজি, এবং গণিত—এই তিনটি বিষয়ের প্রতিটি ১০০ নম্বরের হবে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় থেকে ৫০ নম্বর এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান থেকে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।

এদিকে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষা ২১, ২২, ২৩, ২৪ এবং ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষাগুলো পাঁচটি বিষয়ের ওপর হবে, যার মোট নম্বর ৫০০।

  • ২১ ডিসেম্বর: কুরআন মাজিদ এবং আকাইদ ও ফিকহ (একত্রে)
  • ২২ ডিসেম্বর: আরবি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (একত্রে)
  • ২৩ ডিসেম্বর: বাংলা
  • ২৪ ডিসেম্বর: ইংরেজি
  • ২৮ ডিসেম্বর: গণিত ও বিজ্ঞান (একত্রে)

প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১০০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। শিগগিরই বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে।

উল্লেখ্য , দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। এই পরীক্ষাগুলোতে শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়, এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাথে সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। এই বছর কিন্ডারগার্টেন এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ রাখা হয়নি।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ইবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষাও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কোডভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং সংযুক্ত ইবতেদায়ী শাখার শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

আরও পড়ুন