
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমাতে নতুন ‘প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন অপারেশনাল ম্যানুয়াল ২০২৬’ প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এই উপবৃত্তির আওতায় আসবে।
এবার অর্থ বিতরণ ব্যবস্থায়ও আনা হয়েছে স্বচ্ছতা। উপবৃত্তির টাকা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি অভিভাবকের কাছে পাঠানো হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত অপারেশনাল ম্যানুয়াল অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থী মাসে ৭৫ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে। অন্যদিকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে পরিবারের একজন শিক্ষার্থী হলে ১৫০ টাকা এবং দুইজন শিক্ষার্থী হলে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী মাসে ২০০ টাকা এবং দুইজন হলে ৪০০ টাকা করে উপবৃত্তি পাবে। তবে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
উপবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে পাঠদান দিবসের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ দিন উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।
তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তাদের জন্য ৩৩ শতাংশ নম্বর পেলেই হবে এবং উপস্থিতির ক্ষেত্রেও আংশিক ছাড় রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীর মা বা বৈধ অভিভাবকের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস—যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেট অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সরকারের জিটুপি (G2P) পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি এই অর্থ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। ক্যাশআউট চার্জসহ টাকা পাঠানো হবে, ফলে অভিভাবকদের আলাদা কোনো খরচ দিতে হবে না।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, উপবৃত্তির অর্থ পাওয়ার পর মোবাইল অ্যাকাউন্টের পিন বা ওটিপি কাউকে দেওয়া যাবে না। এছাড়া টাকা পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা উত্তোলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া টানা তিন মাস অনুপস্থিত থাকলে বা পরীক্ষায় অংশ না নিলে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।









