
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে, যাতে সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
ইউপি নির্বাচনে যেকোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে কমিশনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ-দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের প্রতি বিশেষ বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে মারামারি, বিশৃঙ্খলা বা পেশিশক্তির ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।
তবে কমিশনের উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া বা নির্বাচন বন্ধ করা নয় উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, মানুষ যাতে অপরাধ থেকে বিরত থাকে এবং আইন মেনে চলে, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই কমিশনের লক্ষ্য।
গত সোমবার কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনী অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আঘাত বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দেওয়া কিংবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা অপরাধ। একইভাবে কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও এ বিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনী এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট অথবা তার নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
অনিয়ম হলে ফল স্থগিত, পুনরায় ভোটের সুযোগ
নির্বাচনী অনিয়মের কারণে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে তা স্থগিত করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের মাধ্যমে কোনো ভোটকেন্দ্র বা একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করা যাবে।
এ ক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। আর অনুসন্ধানে ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।
নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধানও রয়েছে সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালায়। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন নির্ধারিত সংখ্যক উপযুক্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে। এসব কমিটি নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। প্রভাব বিস্তার ও পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপরই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্ভর করবে।
সূত্র: বাসস
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : info@risingcumilla.com, বিজ্ঞাপন: risingcumillaofficial@gmail.com, নিউজরুম: news.risingcumilla@gmail.com © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC