
রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও অচল অবস্থায় থাকা আটটি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ এবং ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কার্যক্রম ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে।
সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা জানিয়েছেন, জনসাধারণের চাহিদা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে ধাপে ধাপে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশি-বিদেশি যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজ পরিচালনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে প্রকল্পটির নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)কে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পূর্ণাঙ্গ নকশা ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত হওয়ার পর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পে ব্যয় হতে পারে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি।
অন্যদিকে, ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিমানবন্দরটির টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার ও অন্যান্য অবকাঠামো বর্তমানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিমানবন্দরটি আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আধুনিকায়নে প্রায় চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ভবন এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছে। একই সঙ্গে লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালী বিমানবন্দরসহ মোট আটটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর ধাপে ধাপে পুনরায় চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পগুলোর সফলতা নিশ্চিত করতে যাত্রী চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতার যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC