শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬

পাসপোর্ট-বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতি বেশি, ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

পাসপোর্ট-বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতি বেশি, ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার কোটি টাকা: টিআইবি
পাসপোর্ট-বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতি বেশি, ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার কোটি টাকা: টিআইবি/ছবি: মিডিয়া রিলিজ

দেশের বিভিন্ন সেবাখাত থেকে সুবিধা নিতে গিয়ে ৮১.৬ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সময়ে ৬৩.৬ শতাংশ পরিবারকে ঘুষ দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।

টিআইবির প্রকাশিত ‘সেবাখাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দুর্নীতির শিকার পরিবারের হার বেড়েছে ১৫.১ শতাংশ এবং ঘুষ দেওয়ার হার বেড়েছে ২৫.২ শতাংশ।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫.৯ শতাংশ বেশি। এই অর্থ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত জাতীয় বাজেটের প্রায় ১.৫৮ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ০.২৩ শতাংশ।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে পাসপোর্ট, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বিচারসংশ্লিষ্ট সেবায়।

জরিপে বলা হয়েছে, কিছু সেবাখাতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলেও জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দুর্নীতি কমেনি। ৯৮.১ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, সেবা পেতে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ৯১.২ শতাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘুষ দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ৮১.৫ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না।

টিআইবি আরও জানায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ব্যবস্থার বিষয়েও সাধারণ মানুষের সচেতনতা কম। ৫৩.৩ শতাংশ পরিবার অভিযোগ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানে না। সরকারের অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে জানে মাত্র ১.৪ শতাংশ পরিবার।

দুর্নীতির মূল কারণ হিসেবে জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির ঘাটতিকে দায়ী করেছেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। জরিপে দেখা গেছে, দরিদ্র পরিবারগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্নীতির বোঝা বহন করতে হচ্ছে।

তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধে সেবাখাতের পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন, অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

টিআইবি দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি সেবা ডিজিটাল করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা কার্যকর করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো।

টিআইবির এই জরিপে দেশের ৮টি বিভাগের শহর ও গ্রামাঞ্চলের ১৫ হাজার ৭১৫টি পরিবারের অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের সময়কাল ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।

আরও পড়ুন