রবিবার ৩১ আগস্ট, ২০২৫

পাকিস্তানী নারী সাংবাদিক মেহরুন্নিসার ভাইরাল রিপোর্টিং ও ‘বিবিসি’ বিতর্ক

রাইজিং ডেস্ক

Pakistani female journalist Mehrunnisa's viral reporting and 'BBC' controversy
পাকিস্তানী নারী সাংবাদিক মেহরুন্নিসার ভাইরাল রিপোর্টিং ও 'বিবিসি' বিতর্ক/ছবি: সংগৃহীত

পাঞ্জাবের ভয়াবহ বন্যার মধ্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে মেহরুন্নিসা নামের এক তরুণী প্রতিবেদককে দেখা যায় দুলতে থাকা একটি নৌকা থেকে সরাসরি প্রতিবেদন করতে।

ভিডিওটির শুরুতে তিনি বেশ গম্ভীরভাবে বলেন, “যেমন দেখতে পাচ্ছেন, পানির চাপ বেড়ে যাচ্ছে।” কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন, “বেশি ভয় লাগছে, কখনও এই পাশে যায়, কখনও ওই পাশে যায়—আমাদের ব্যালান্স হচ্ছে না।” শেষমেশ তিনি দর্শকদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করুন, গাইজ।”

এই অদ্ভুত ধরনের প্রতিবেদনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই অনেকেই তাকে বিবিসি উর্দুর সাংবাদিক বলে ধরে নেন। কারণ তার হাতে থাকা মাইকে ‘বিবিসি উর্দু’ লোগো লেখা ছিল। তবে পরে জানা যায়, মেহরুন্নিসা আসলে ‘ভাই ভাই চ্যানেল’-এর হয়ে কাজ করছিলেন।

ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া ফেললে বিবিসি উর্দু একটি বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করে জানায়, পাকিস্তানে ‘পাঞ্জাব টিভি’ নামে একটি ডিজিটাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে তাদের নাম ব্যবহার করছে। বিবিসি উর্দুর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা কাউকে তাদের নাম ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। সংস্থাটি দর্শকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিবিসির নামে কোনো কনটেন্ট দেখলে তা যেন প্রথমে তাদের সরকারি প্ল্যাটফর্মে যাচাই করে নেওয়া হয়।

বিবিসির এই বিবৃতিতে মেহরুন্নিসা দমে যাননি। তিনি নিজের ব্যাখ্যায় বলেন, “মানুষ বলছে আমরা বিবিসি কপি করেছি। কিন্তু আমরা তা করিনি। তাদের বিবিসি মানে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন আর আমাদের বিবিসি মানে ভাই ভাই চ্যানেল।”

তবে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগের পর মেহরুন্নিসার ইউটিউব ও টিকটক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। জিও নিউজকে তিনি বলেন, “আমাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি বিবিসিকে অনুরোধ করছি স্ট্রাইক তুলে নিতে। আমরা লাহোরভিত্তিক ছোট একটি চ্যানেল। আমরা কঠোর পরিশ্রম করি। আমাদের সঙ্গে আপনাদের কোনো প্রতিযোগিতা নেই। দয়া করে আমাদের অ্যাকাউন্টগুলো ফিরিয়ে দিন।”

আরও পড়ুন