
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ডিবেটিং সোসাইটি (ডিএস) নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। ২০২৫–২৬ সালের জন্য ঘোষিত এ কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন ডিবিএ বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাইম উদ্দিন রাফি এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদুল্লাহ গৌরব। গতকাল বৃহস্পতিবার এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।
তবে তালিকা প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠছে, যোগ্যতা নয়, ‘কোরাম মেনে চলা’ আর সিনিয়রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতেই পদ দেওয়া হয়েছে অবহেলিত হয়েছেন দীর্ঘদিন ক্লাবের জন্য কাজ করা ‘ত্যাগী ডিবেটাররা’।
ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাড়েন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) শামস উদ্দিন চৌধুরী। তিনি লেখেন, “আপনার জিএস যখন ‘without sugar coating’ বলে ২টা কোরাম এক্সিস্ট করে এবং ২টা ব্যালেন্স করার জন্য একজনকে ৪ বছর খাটার পরও যোগ্য পদ থেকে সরানো হয়, it’s just a disgrace!”
সাবেক কোষাধ্যক্ষ সুধা বড়ুয়া লেখেন, “সারাজীবন নিজের পদের কাজ না করে শুধু কোরাম মেনটেইন করে আর তেল দিয়ে পদ পাওয়া যায়। আর যারা নিজের সবটুকু দিয়ে করেছে, তাদের ভাগ্যে জোটে শুধু হতাশা।”
এছাড়াও,সাবেক দপ্তর সম্পাদক সায়মা আহমেদ চৌধুরীও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নতুন কমিটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এজিএমে উপস্থিত সংগঠনের এক সদস্য বলেন, “শামস ভাই অত্যন্ত সক্রিয় এবং পরিশ্রমী ছিলেন। তাকে সভাপতি বা সেক্রেটারি না দেওয়ায় সবাই অবাক হয়েছে। পরে জানলাম, কোরাম আর প্যানেল রাজনীতির কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দক্ষ ডিবেটার জাহানকে কোনো পদ না দেওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। নতুন কমিটির সহ–সভাপতি নুসাইবা চৌধুরীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, “ডিএসে কোরাম আর প্যানেল রাজনীতি এখন প্রকাশ্য। গতকালে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির শীর্ষ ৪ জন ভাইয়া ও আপু পোস্টে মাধ্যমে বিষয়টা সবার সামনে এলো। এছাড়া নতুন কমিটি ঘোষণার দিনে সাবেক মডারেটরদের তিনজনই অনুপস্থিত ছিলেন। আগে তারা উপস্থিত না থাকলেও অন্তত শুভেচ্ছাবার্তা দিতেন। সদস্যদের অনেকে বিষয়টিকে ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসের সাবেক সভাপতি মুবদী রাফিন বলেন, “ক্লাবের সংবিধান অনুযায়ী কমিটি দেওয়া হয়েছে। দুইজন উপদেষ্টা ও ছয়জন এক্সিকিউটিভ সদস্য মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অভিযোগে কিছু হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখনো সম্পূর্ণ অবগত নই। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”










