সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬

নবাগত শিক্ষার্থীদের জরুরি দিকনির্দেশনা দিলেন নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য রেজুয়ানুল হক

মো: নাঈমুর রহমান, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

Rising Cumilla - Nobiprovi Pro-Vice Chancellor Rezuanul Haque gives urgent guidance to new students
ছবি: প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া এবং ভবিষ্যতে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক।

সম্প্রতি দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী, দক্ষতা উন্নয়নমুখী এবং ভবিষ্যৎ-সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বিস্তৃত এ পরামর্শধর্মী বক্তব্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের সময় নয়, বরং নিজেকে গড়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন স্বাধীনতার জায়গা হলেও এটি একইসঙ্গে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সময়। এই সময়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সহজ হয়; আর অবহেলা করলে তার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বহন করতে হয়।

প্রথম বর্ষ থেকেই পড়াশোনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

উপ-উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই পড়াশোনায় সিরিয়াস না হলে পরবর্তীতে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রথম বর্ষে ভালো ফলাফল করতে পারলে তা একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও কাজের স্পিরিট তৈরি করে, যা পরবর্তী একাডেমিক জীবনকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ক্লাস করা, ক্লাস নোট সংগ্রহ, নিজস্ব নোট তৈরি, রেফারেন্স বই পড়া এবং সিনিয়রদের পরামর্শ নেওয়া এসব অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীকে অনেকখানি এগিয়ে দিতে পারে।

ইংরেজি, যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতায় জোর

শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, রাইটিং ও স্পোকেন—উভয় ক্ষেত্রেই ইংরেজিতে ভালো দখল ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ ও চাকরিক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

একইসঙ্গে তিনি যোগাযোগ দক্ষতা, বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস এবং প্রেজেন্টেশন স্কিল বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তাঁর ভাষায়, “সুযোগ পেলেই বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।”

এক্সট্রা কারিকুলার ও স্কিল ডেভেলপমেন্টে উৎসাহ

শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিতর্ক, ক্যারিয়ার ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, ইন্টার্নশিপ এবং অনলাইন-অফলাইন কোর্সে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি নেওয়ার জায়গা নয়; এটি নিজেকে গড়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।

আয়মুখী কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ

নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা চাইলে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা পার্ট-টাইম কাজের মাধ্যমে সৎভাবে আয় করতে পারে। এতে যেমন অর্থের মূল্য বোঝা যায়, তেমনি ভবিষ্যতের চাকরিজীবনের জন্যও বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।

তিনি মনে করেন, প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত থাকা শিক্ষার্থীদের বিপথগামিতা থেকেও দূরে রাখতে সহায়ক।

সিভি গঠন ও গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার আহ্বান

বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ সিভি কেমন হবে তা কল্পনা করে কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সিভি হুট করে তৈরি হয় না; এটি ধাপে ধাপে গড়ে তুলতে হয়।

একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হওয়া, আর্টিকেল প্রকাশ করা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার দিকেও উৎসাহিত করেন। তাঁর মতে, ভালো জিপিএ ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকলে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগও অনেক বেড়ে যায়।

‘জিপিএ ম্যাটার করে’—স্পষ্ট বার্তা

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জিপিএ ম্যাটার করে না”—এ ধরনের কথায় বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। বাস্তবতায় ভালো জিপিএ না থাকলে অনেক জায়গায় আবেদন করার সুযোগই পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনাই সবচেয়ে বড় পুঁজি। ভালো ফলাফল, পরিশ্রম এবং দক্ষতাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান

শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বক্তব্যে অভিভাবকদের প্রতিও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সন্তানের পড়াশোনা, বন্ধু-বান্ধব, চলাফেরা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন: সম্ভাবনা ও ঝুঁকির মিশেল

নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যেমন ভালো হওয়ার অসংখ্য সুযোগ আছে, তেমনি ভুল পথে যাওয়ার পরিবেশও থাকে। ফলে কোন পথে হাঁটবে—সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীকেই নিতে হবে।

তাঁর ভাষায়, “এই চার-পাঁচ বছরই একজন মানুষের বাকি জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দিতে পারে।”

আরও পড়ুন