
ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যালস বাজারে এনেছে নিউমোনিয়া ও নিউমোকক্কাল (ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত শিশুদের মারাত্মক এক ধরনের রোগ) প্রতিরোধী ‘এভিমার-১৩’ নামে একটি টিকা। এই টিকা ৬ সপ্তাহ থেকে ৬৫ বছর বয়সীরা নিতে পারবেন। এটিই দেশে প্রথম নবজাতকসহ সব বয়সীদের জন্য নিউমোনিয়ার টিকা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘রেসপিরেটরি ভ্যাকসিনস’ শীর্ষক এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এই টিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সভাপতি বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. আলী হোসেন।
তিনি বলেন, ‘এভিমার-১৩’ টিকা যেকোনো বয়সীদের দেওয়া যাবে এবং ৯৫ শতাংশ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম। এর ইমিউনিটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত থাকবে। এই টিকা শ্বাসকষ্টজনিত সব ভাইরাসে বিরুদ্ধে কার্যকর। নিউমোনিয়া বা নিউমোকক্কালজনিত রোগ প্রতিরোধে ডায়বেটিস, কিডনি রোগীরাও এ টিকা নিতে পারবেন। শুধু নিউমোনিয়া থেকে প্রতিরোধী নয় অ্যাডাল্ট জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্যও এ ভ্যাকসিন নেওয়া দরকার।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার ফারহানা লিজু বলেন, নিউমোনিয়া প্রতিরোধে ২ বছরের কম বয়সীদের ৩ ডোজের এভিমার-১৩ টিকা নিতে হবে। এছাড়া সব বয়সীরা এক ডোজ টিকা নিলেই হবে। দেশের বাজারে এ টিকা দাম ৪ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, প্রতি বছর শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়। বিশেষ করে অ্যাজমা, সিওপিডি, হৃদরোগী, কিডনি রোগী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতদিন বাংলাদেশে এই টিকাটির অনেক বেশি চাহিদা থাকলেও শুধু আমদানির ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হতো। এখন বাংলাদেশে তৈরি হবে।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমীন, ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ, কনসালটেন্ট পালমোনোলজিস্ট ডা. মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর খান, বিএলএফের থোরাসিক সার্জারি সেলের সদস্য সচিব অধ্যাপক একেএম আকরামুল হক এবং জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার এলএইচ ভুঁইয়া।