
তেলাপিয়া মাছ নিয়ে মানুষের মতভেদ নতুন নয়। অনেকেই নিয়মিত এই মাছ খেয়ে থাকেন, আবার অনেকে মাছটি দেখলেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে—তেলাপিয়া মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার পেছনে কিছু বাস্তব কারণও রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ তেলাপিয়াকে ‘গারবেজ ফিশ’ বা ‘ট্র্যাশ ফিশ’ হিসেবেও অভিহিত করেন। কারণ, এই মাছ সাধারণত শেওলা, আবর্জনা এবং বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত খাদ্য খেয়েও টিকে থাকতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেন, সঠিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চাষ করা হলে তেলাপিয়া পুরোপুরি নিরাপদ এবং পুষ্টিকর মাছ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।
তেলাপিয়ার পুষ্টিগুণ:
তেলাপিয়া মাছে রয়েছে—
উচ্চমাত্রার প্রোটিন
পটাশিয়াম
ভিটামিন বি-১২
ফসফরাস
এসব উপাদান তেলাপিয়াকে একটি পুষ্টিকর খাদ্যে পরিণত করেছে। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ১২০টি দেশে বাণিজ্যিকভাবে তেলাপিয়ার চাষ হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলাপিয়া নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ মাছটি নয়, বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অস্বাস্থ্যকর চাষ পদ্ধতি। দ্রুত লাভের আশায় অনেক খামারে নিয়মবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হচ্ছে এবং শরীরে ক্ষতিকর উপাদান জমা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বর্তমানে অনেক খামারে তেলাপিয়া চাষে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি মাছের খাবার হিসেবে হাঁস, মুরগি ও শূকরের দেহাবশেষ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অনিরাপদ খাদ্য ও রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে তেলাপিয়া মাছ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিকযুক্ত মাছ খেলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেলাপিয়া মাছে ডিবিউটিলিন ও ডাইঅক্সিন নামের ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ডিবিউটিলিন: সাধারণত প্লাস্টিক পণ্যে ব্যবহৃত হয়। এটি শরীরে প্রবেশ করলে স্থূলতা, হাঁপানি ও অ্যালার্জির মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ডাইঅক্সিন: দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তেলাপিয়া নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
তেলাপিয়া মাছ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে এর উৎপত্তিস্থল ও চাষ পদ্ধতি যাচাই করা জরুরি।
নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া সীমিত পরিমাণে খেলে তা ক্ষতিকর নাও হতে পারে।
বাজার থেকে মাছ কেনার সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং বিশ্বস্ত উৎস থেকে মাছ সংগ্রহ করা উচিত।
সুতরাং, সঠিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রেখে এবং মাছের উৎস নিশ্চিত করে তেলাপিয়া মাছ খাওয়া নিরাপদ হতে পারে। তবে অজানা উৎস বা সন্দেহজনক পরিবেশে উৎপাদিত তেলাপিয়া মাছ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
সূত্র: নিউজ ১৮ বাংলা










