
সম্প্রতি ক্রীড়াবিষয়ক একটি অনলাইন ঈদ ফেস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের গতিময় পেসার তাসকিন আহমেদ এবং তার স্ত্রী সৈয়দা নাইমা রাবেয়া। অনুষ্ঠানে দুজনেই তাদের একসাথে পথচলার নানা স্মৃতি শেয়ার করেন।
২০১৭ সালে পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হন তাসকিন ও নাইমা। তবে তাদের সম্পর্কের শুরুটা আরও আগে—স্কুলজীবন থেকেই। ২০১০ সালে তাসকিনের ছোট বোনের জন্মদিনের এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নাইমা। সেখান থেকেই তার প্রতি ভালো লাগার শুরু তাসকিনের, যা পরবর্তীতে ভালোবাসায় রূপ নিয়ে ২০১৭ সালে পূর্ণতা পায়।
ঈদ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তাসকিন বলেন, “ঈদ সবসময়ই স্পেশাল। বিয়ের আগের ঈদগুলো ছিল অন্যরকম—তখন ছোট ছিলাম, সালামি নেওয়ার আগ্রহ আর শপিংয়ের উত্তেজনা বেশি ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো কমেছে। তবে বিয়ের পরের ঈদও শুরুতে খুব বিশেষ ছিল। এখন সন্তান হওয়ার পর অনুভূতিটা ভিন্ন—নিজের চেয়ে পরিবার ও বাচ্চাদের দিকেই বেশি মনোযোগ থাকে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এখনও ঈদ অনেক স্পেশাল। তবে চেষ্টা থাকে কীভাবে পরিবারের সবাইকে খুশি রাখা যায়। বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় ২৬৫ দিনই খেলাধুলার কারণে ব্যস্ত থাকি। টিম হোটেলে থাকতে হয়, পরিবারের সঙ্গে সময় কম কাটানো হয়। তাই নাইমার জন্য তিনটি সন্তান সামলানো কঠিন। মাঝে মাঝে বাচ্চারা আমার বাবা-মায়ের কাছেও থাকে। আমি চেষ্টা করি সবাইকে খুশি রাখতে।”
ঈদে সালামি প্রসঙ্গে মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন নাইমা। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় সালামিটা আমি ওর কাছ থেকেই পাই। সকাল, দুপুর, রাত—সব সময়ই নেই। একবার ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সালামি নিয়েছি। বিয়ের আগে ঈদ ছিল উপভোগের, আর এখন ঈদ হয়ে গেছে আরও স্পেশাল—জামাইয়ের কাছ থেকে সালামি নিতে নিতে।”
তাদের পরিচয়ের শুরুর গল্পও তুলে ধরেন তাসকিন। তিনি বলেন, “আমরা একসাথে স্কুলে পড়তাম। তবে আমার ভালো লাগা শুরু হয় ছোট বোনের জন্মদিনে ওকে প্রথমবার বোরকা ছাড়া দেখার পর। তখন মনে হয়েছিল—এখন তো সুন্দর লাগছে! এরপর ধীরে ধীরে ফোনে কথা শুরু হয়। আমি ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম, আর পড়াশোনার বিষয় নিয়েও আমাদের কথা হতো।”
নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথাও উল্লেখ করেন এই পেসার।
“২০১৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ভালো সময় কাটছিল। ২০১৫ বিশ্বকাপেও ভালো পারফর্ম করি। দুই বছরের মধ্যে ১৫-১৬টি এন্ডোর্সমেন্ট পাই। তখন মনে হচ্ছিল—‘ওয়াট এ লাইফ!’”
অন্যদিকে নাইমা জানান, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে স্যুট পাওয়ার পর তাসকিন তাকে দেখানোর জন্য বাসার নিচে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
তাসকিনের জনপ্রিয়তা ও নারী ভক্তদের প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেন নাইমা। “একটা সময় অনেক নারী ভক্তকে ফেসবুক থেকে ব্লক করতে হয়েছে। একদিনেই ২০ জনের বেশি ব্লক করেছি,”—বলেছেন তিনি।









