
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত শুক্রবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ না কাটতেই আজ শনিবার সন্ধ্যার পর এবং সকালে আবারও দুই দফায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে নরসিংদী ও এর আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে বারবার এই কম্পন সৃষ্টি হওয়ায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী থেকে ১১ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
তবে ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭।
শনিবার সকালের মৃদু কম্পন সন্ধ্যার আগে আজ সকালেও একবার মৃদু ভূমিকম্প হয়। সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে অনুভূত হওয়া এই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩।
শুক্রবার সকালের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার (আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী) শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে। ওই ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া এবং হুড়োহুড়ির ঘটনায় শিশুসহ মোট ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকেই বহুতল ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু ভবন হেলে পড়ার এবং ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত পরপর দুই দিনে তিনবার ভূমিকম্পের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো স্থানে বড় ধরণের ভূমিকম্প হওয়ার পর সাধারণত একাধিক ‘পরাঘাত’ বা ‘আফটারশক’ অনুভূত হয়। শনিবারের কম্পনগুলো শুক্রবারের বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী প্রভাব বলেই ধারণা করা হচ্ছে।









