
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন। যা দেশের দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে প্রণীত বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন কার্যকর করার ক্ষমতা সরকারের হাতে ছিল। সেই ক্ষমতা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিন থেকেই আইনটি কার্যকর বলে গণ্য হবে।
নতুন এই বোর্ডটি মূলত দেশের দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো স্থানীয় দুধের উৎপাদন বাড়ানো, খামারিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়া।
খামারিরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, বোর্ড গঠনের ফলে দুধ উৎপাদন খাতে ন্যায্য মূল্য ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র খামারিরাও টিকে থাকার সুযোগ পাবেন।
উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দুধের চাহিদা প্রতি বছর বাড়লেও উৎপাদন সে তুলনায় পিছিয়ে আছে। এই ঘাটতি পূরণে নতুন বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের দুগ্ধশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সাহায্য করবে।
সরকারি সূত্র আরও জানিয়েছে, বোর্ড কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন, দুগ্ধজাত শিল্পের সম্প্রসারণ এবং মান নিয়ন্ত্রণে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবে। এই কাঠামোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের রপ্তানি বাজারও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি টন দুধের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয় প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ টন। ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর হলে এই ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে দেশের দুধ শিল্পে স্বনির্ভরতার পথ সুগম হবে।