বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় জানুয়ারিতেই স্বাক্ষরের আশা জেলেনস্কির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Rising Cumilla - Volodymyr Zelenskyy
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় জানুয়ারিতেই স্বাক্ষরের আশা জেলেনস্কির

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় আগামী জানুয়ারির মধ্যেই কিয়েভ ও মস্কো স্বাক্ষর করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।

বুধবার এক ঘোষণায় জেলেনস্কি জানান, গত রোববার ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠক সফল হয়েছে। তিনি বলেন,
“আমি আশা করছি, আগামী জানুয়ারির মধ্যেই ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে এবং সেটি স্বাক্ষরিত হবে।”

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা (সিকিউরিটি গ্যারান্টি) চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তে সম্মত হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ রয়েছে, আগামী ১৫ বছর ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জেলেনস্কি এই মেয়াদ ১৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে বর্তমানে কিয়েভ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমি আশা করছি, ইউক্রেন এবং তার নাগরিকদের নিরাপত্তাগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনে শুধুমাত্র মার্কিন সেনাবাহিনীই অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট করেন, এই নিশ্চয়তা ব্যবস্থার আওতায় অন্য কোনো দেশের সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই।

এছাড়া ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইউক্রেনকে সরবরাহ করবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবারের ভাষণে যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেন পুনর্গঠন নিয়েও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তার ভাষায়, যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানি ইউক্রেনের পুনর্গঠনসহ নানা খাতে বিনিয়োগ করবে।

জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনে নাগরিকদের গড় আয় ও মজুরি বৃদ্ধি করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে এ ক্ষেত্রে তিনি ইউক্রেনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। আমি তার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

আরও পড়ুন