
নিজস্ব প্রতিবেদক
জলাবদ্ধতার মধ্যে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে। জলাবদ্ধতার ঘটনার ১০ দিনের মাথায় কলেজটির সাত শিক্ষককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদদুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওএসডি করার পর শিক্ষকদের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
বদলিকৃত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম (চিওড়া সরকারি কলেজ, চৌদ্দগ্রাম), গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক (কক্সবাজার সরকারি কলেজ), উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া (হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (নবীনগর সরকারি কলেজ), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন (বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ) এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন (বরগুনা সরকারি কলেজ)।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম সরাসরি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না। তার ছেলে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে বিরত ছিলেন। অন্যদিকে, কনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়র শিক্ষকদের অনীহার কারণে অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম বলেন, "বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বিষয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে যে কাউকে যেকোনো সময় বদলি করতে পারে।"
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই টানা অতিবৃষ্টির কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর উদ্যোগে নৌকা ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। নৌকায় করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
এরপর গত ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে জলাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC