
লাইফস্টাইল ডেস্ক
রান্নাঘরের দৈনন্দিন খরচের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে সিলিন্ডার গ্যাস। বর্তমানে গ্যাসের বাজার অস্থির থাকায় অনেক পরিবারই মাসিক বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধার বাইরে, তারা পুরোপুরি সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম বাড়লেও সচেতন ব্যবহার এবং কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে সিলিন্ডার গ্যাসের মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি এতে রান্নার সময় নিরাপত্তাও বজায় থাকে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক—কীভাবে সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমানো যেতে পারে।
রান্নার আগেই পরিকল্পনা জরুরি
গ্যাস সাশ্রয়ের প্রথম ধাপ শুরু হয় রান্নার আগেই। কী রান্না করবেন, কত সময় লাগবে—এগুলো আগে থেকে পরিকল্পনা করে নিলে চুলা অকারণে জ্বালিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়ে না। এতে গ্যাসের অপচয় অনেকটাই কমে।
মাঝারি আঁচে রান্না করুন
অনেকেই দ্রুত রান্নার জন্য চুলার আগুন বাড়িয়ে দেন। কিন্তু উচ্চ তাপে রান্না করলে যেমন খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়, তেমনি সিলিন্ডার গ্যাসের বড় একটি অংশ অপচয় হয়। তাই রান্নার সময় আঁচ মাঝারি রাখলে গ্যাস খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
বার্নার পরিষ্কার রাখুন
নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখা গ্যাস সাশ্রয়ের অন্যতম উপায়। বার্নার পরিষ্কার থাকলে গ্যাসের দহন সঠিক হয় এবং অপচয় কমে। ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে ন্যাকড় ভিজিয়ে ঘষলে সহজেই বার্নার পরিষ্কার করা যায়।
রান্নার উপকরণ আগে থেকেই প্রস্তুত করুন
রান্নার সময় সবকিছু একসঙ্গে প্রস্তুত না থাকলে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনি গ্যাসের ব্যবহারও বেড়ে যায়। অনেকেই পাত্র গরম করার জন্য চুলা জ্বালিয়ে রেখে সবজি কাটা বা মসলা তৈরির কাজ শুরু করেন, এতে অপ্রয়োজনীয় গ্যাস খরচ হয়। তাই চুলা জ্বালানোর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখলে রান্নার সময় ও গ্যাস—দুটোই সাশ্রয় হয়।
প্রেসার কুকার ও সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করুন
ডাল, মাংস বা সময়সাপেক্ষ রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে গ্যাস অনেক কম লাগে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বা অন্যান্য জ্বালানিনির্ভর যন্ত্রের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবহারও গ্যাস সাশ্রয়ে সহায়ক। ঘরে মাইক্রোওয়েভ থাকলে খাবার গরম করার কাজে তা ব্যবহার করা যেতে পারে।
খোলা পাত্রে রান্না এড়িয়ে চলুন
খোলা পাত্র থেকে তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়। ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ ধরে থাকে, খাবারের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং রান্নার সময় কমে। ফলে গ্যাসের ব্যবহারও কম হয়।
হাঁড়ি-পাতিল বাছাইয়ে সতর্কতা
রান্নার পাত্রের আকার চুলার আগুনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। ভারী তলার হাঁড়ি তাপ বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, ফলে কম আগুনে ভালোভাবে রান্না সম্ভব হয়। ঢাকনা ব্যবহার করলে ভেতরের তাপ বের হয় না, এতে রান্নার সময়ও কম লাগে।
পাত্রের নিচে তাপ ধরে রাখার পাথর ব্যবহার
ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি হিসেবে হাঁড়ির নিচে পাথর বসানো যেতে পারে। পাথরের তাপীয় ভর রান্নার সময় তাপ শোষণ করে এবং ধীরে ধীরে তা পাত্রে ছড়িয়ে দেয়। এতে অল্প গ্যাস ব্যবহার করেই বেশি তাপশক্তি পাওয়া যায়।
রান্নার পাত্র শুকিয়ে ব্যবহার করুন
চুলায় ভেজা হাঁড়ি বা পাত্র রাখলে পানি বাষ্পীভূত করতে অতিরিক্ত গ্যাস লাগে। তাই রান্নার আগে পাত্রগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নিলে গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব।
সূত্র: দ্য বেটার ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC