
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেই অতিরিক্ত খরচও গ্রাহকদের ওপর সমন্বয়ের সুযোগ চেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
শুনানিতে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের ব্যবহারভিত্তিক ধাপ বা স্ল্যাব পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপ পড়বে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর।
এছাড়া বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বা ক্রস-সাবসিডি প্রত্যাহার করে সেগুলোকে বাণিজ্যিক শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। এতে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের গণশুনানিতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সঞ্চালন চার্জ ইউনিটপ্রতি ১৯ পয়সা বা প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ঘাটতি তৈরি হতে পারে। পদ্ধতিগত কারণেই এই ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এখন বিদ্যুতের দাম সমন্বয় না করা হলে দেশের বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে গণশুনানিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা, অপচয় ও দুর্নীতির দায় সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে। দাম বাড়ানোর পরিবর্তে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে ব্যয় কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
বিরোধিতাকারীরা বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক অর্থনীতিতে। বিশেষ করে শিল্প ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC