মঙ্গলবার ৩ মার্চ, ২০২৬

গ্যাস নেই কুমিল্লা শহরে: কেটলি, ইনডাকশন ও রাইস কুকার ব্যবহার করছেন?—জানুন প্রয়োজনীয় সতর্কতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

Rising Cumilla - Using kettle, induction, rice cooker
কেটলি, ইনডাকশন, রাইস কুকার ব্যবহার/প্রতীকি ছবি এআই/রাইজিং কুমিল্লা

নন্দনপুর ডিআরএস-এ জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে কুমিল্লা নগরীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই গ্যাস বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুমিল্লা নগরীর আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে আগে থেকেই রান্না ও বিকল্প জ্বালানির প্রস্তুতি নিতে তৎপরতা দেখা গেছে। এরই অংশ হিসেবে আজ ইলেকট্রিক কেটলি, ইনডাকশন কুকার ও রাইস কুকারের ব্যবহার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে যেহেতু এই তিনটিই বৈদ্যুতিক যন্ত্র, তাই নিরাপদ ব্যবহারের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম-কানুন জানা রাখা জরুরি।

ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার:

শীতের সকালে এক কাপ চা কিংবা গরম পানির জন্য ইলেকট্রিক কেটলি এখন অনেকের ঘরের নিত্যসঙ্গী। দ্রুত পানি গরম করার সুবিধা থাকলেও অসাবধানতা থেকে ঘটতে পারে শর্ট সার্কিট, আগুন লাগা কিংবা যন্ত্র নষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহারে কিছু সতর্কতার কথা বলেছেন। সেগুলো হলো—

১. সঠিক পরিমাণে পানি দিন
কেটলির গায়ে উল্লেখ করা ‘MAX’ লেভেলের বেশি পানি দেবেন না। অতিরিক্ত পানি ফুটে উপচে পড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

২. কেটলির বেস শুকনো রাখুন
কেটলির নিচের অংশে পানি থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগের সময় শর্ট সার্কিট হতে পারে। ব্যবহারের আগে ভালো করে শুকিয়ে নিন।

৩. শুধু পানি গরম করুন
কেটলিতে দুধ, স্যুপ বা কফি গরম করা থেকে বিরত থাকুন। এতে যন্ত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৪. ব্যবহারের পর বন্ধ করতে ভুলবেন না
অনেক কেটলিতে অটো শাটডাউন থাকলেও অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়াতে নিজের পক্ষ থেকেও বন্ধ করা নিশ্চিত করুন।

৫. নিয়মিত পরিষ্কার করুন
ব্যবহারের ফলে কেটলির ভেতরে স্কেল জমে যায়। ভিনেগার বা লেবুর রস দিয়ে মাঝে মাঝে পরিষ্কার করলে কেটলি টেকসই হবে এবং পানিও থাকবে স্বাস্থ্যকর।

ইনডাকশন কুকার ব্যবহার:

ইনডাকশন কুকার গ্যাসের একটি কার্যকর বিকল্প। এটি দ্রুত গরম হয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। তবে ভুল ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ইনডাকশন কুকার ব্যবহারের সময় যেসব সতর্কতা মানা জরুরি—

  • ঢাকনাযুক্ত পাত্র হলে ঢাকনা ভালোভাবে লাগিয়ে রান্না শুরু করুন

  • কখনোই বাসন টেনে নামাবেন না

  • গরম সিরামিকে হাত দেবেন না

  • ভাঙা বা ফাটা কাঁচের ঢাকনা ব্যবহার করবেন না

  • রান্নার সময় কিছু পড়লে সঙ্গে সঙ্গে মুছবেন না

  • ব্যবহৃত তার নিরাপদ দূরত্বে রাখুন

  • পোড়া দাগ পরিষ্কারে ডিটারজেন্ট বা ভিনেগার ব্যবহার করুন

  • সবসময় ঠাণ্ডা বাসন বসিয়ে রান্না শুরু করুন

রাইস কুকার ব্যবহার:

রাইস কুকার একটি স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যা অল্প সময়ে ঝামেলাহীনভাবে ভাত রান্নায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। ১৯৫৫ সালে জাপানের তোশিবা কোম্পানি প্রথম ইলেকট্রিক রাইস কুকার বাজারে আনে।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের রাইস কুকার রয়েছে—

  • স্ট্যান্ডার্ড রাইস কুকার

  • মাল্টিফাংশন রাইস কুকার

  • ইন্ডাকশন হিট রাইস কুকার

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় স্ট্যান্ডার্ড রাইস কুকার।

রাইস কুকারের অংশসমূহ

  • মূল অংশ

  • ইনার কুকিং প্যান

  • ইলেকট্রিক হিটিং প্যান

  • থার্মোস্ট্যাট

রাইস কুকারে রান্নার টিপস:

  • চাল মেপে ধুয়ে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে পানি ঝরিয়ে নিন

  • চালের জাতভেদে পানির পরিমাণ ঠিক করুন

  • মিনিকেট বা নাজিরশাইল চালের জন্য ১ কাপ চালে ২.৫ কাপ পানি প্রয়োজন

  • বাসমতী বা পোলাওয়ের চালের জন্য ১ কাপ চালে ২ কাপ পানি যথেষ্ট

  • মাংস, সবজি বা মাছ সমান আকারে কাটুন

  • গরুর মাংস সিদ্ধে পেঁপে বা সুপারি ব্যবহার করা যেতে পারে

  • বিকল্প হিসেবে একটি স্টিলের চামচ দিলে মাংস দ্রুত সিদ্ধ হয়

  • রাইস কুকারে ডিম সিদ্ধ করা যাবে, তবে দুধ জ্বাল দেওয়া যাবে না

মনে রাগতে হবে, গ্যাস বন্ধের এই সময়ে ইলেকট্রিক কেটলি, ইনডাকশন কুকার ও রাইস কুকার হতে পারে কার্যকর বিকল্প। তবে সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই সচেতন থাকুন, নিরাপত্তা মেনে চলুন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্টারনেট

আরও পড়ুন