
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে কোন গণহত্যার অভিযোগ নেই। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে এবং জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আছে। এই দুইটা একই জিনিস, এদের বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে চাটখিল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একাত্তরের পরে ২৪-এর যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে এটি ছিল একটা জনমানুষের আন্দোলন। এই কৃতিত্বের দাবিদার আমরা সকলেই। যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘ সতের বছর আন্দোলন, সংগ্রাম লড়াই করেছে। আমাদের নেতা ইলিয়াছ আলী চলে গিয়েছে আজ পর্যন্ত তার কোন হদিস পায়নি। চৌধুরী আলমের মত নেতাকে গুম করে ফেলা হয়েছে। কয়েক হাজারের ওপরে মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে, হত্যার শিকার হয়েছে। তাদের রক্তের কি কোন মূল্য নেই, তাদের রক্তের কি আমরা কোন শ্রদ্ধা জানাবোনা। আমাদের এত ভাই শহীদ হয়েছে, সতের বছর ধরে আন্দোলন করেছে।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ৫ তারিখের পরে এসে আমরা বলি নাই ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের একক কৃতিত্ব। এটা আমরা কোন দিন বলি নাই বলবোও না। কোন কিছুর কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য আমরা লড়াই, সংগ্রাম আন্দোলন করি নাই। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি যখন জুলুমের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল তখনই আমরা সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি, আন্দোলন করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে। জাতীয় জনজীবনে প্রত্যেকটি কাজে আমরা একাত্তরের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাব। একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।
ইশরাক হোসেন বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও বহু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাজপথে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করেছে। গুলির মুখে দাঁড়িয়ে তারা আন্দোলন সংগ্রামকে সফল করার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছে এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতৃবৃন্দ একাত্তর সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ করে নাই, তারা ওই পারে ছিল। তারা এটাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে লুটপাট করেছে। এই পার্থক্যটা আমাদের নতুন প্রজম্মকে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বললে, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে, একাত্তরকে অসম্মান করলে তাদেরকে আমরা কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তত রয়েছি। আমরা চাই দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম লড়াইয়ের পর আর যেন জাতিকে বিভক্ত করা না হয়। বিগত সতের বছর জাতিকে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছিল। এই বিভক্তি দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে সুখি, সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাটখিল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনীষ দাশ এবং চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, সাবেক আহ্বায়ক দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামিম, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।









