
নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভবিষ্যতে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাংলাদেশ বিদেশে রপ্তানি করবে—এমন স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক এ সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে খাবারের অভাব না থাকলেও নিরাপদ খাবারের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে এবং মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম উর্বর ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এ দেশের মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক সুবিধা অনেক দেশের তুলনায় অনুকূল। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষও অত্যন্ত পরিশ্রমী। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, এর বিরূপ প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় কৃষকদের মধ্যেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই নিজেদের সুস্থ রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষিকাজে কোনো লজ্জা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মাঠে যেতে হবে এবং নিজের ফসল নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে।’ তিনি বলেন, আমরা গরুর দুধ ও মাংস খাই। তাহলে গরুর গোবর ফেলতে লজ্জা কিসের? সীমিত সম্পদ নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
দেশে এখনো বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও বাংলাদেশকে এখনো কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটো আমদানি করতে হয়। তবে সেই দিন বেশি দূরে নয়, যেদিন এসব কৃষিপণ্য আর আমদানি করতে হবে না; বরং বাংলাদেশই এসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে।
এর আগে মন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : info@risingcumilla.com, বিজ্ঞাপন: risingcumillaofficial@gmail.com, নিউজরুম: news.risingcumilla@gmail.com © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC