
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, এই আসনে লড়া পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দুই জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন।
১৩ ফেব্রুয়ারি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উপজেলার ১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থীকে তার জামানত রক্ষা করতে হলে ওই আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১২.৫ শতাংশ বা আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হয়। এর চেয়ে কম ভোট পেলে প্রার্থীর জমা দেওয়া জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার নিয়ম রয়েছে।
চান্দিনা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬ জন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রে সর্বমোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ১২০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সেই গাণিতিক হিসেবে জামানত টিকিয়ে রাখার জন্য একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ২৩ হাজার ২৬৫টি ভোট পাওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রতিযোগিতায় থাকা দুইজন প্রার্থী এই নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি এহতেশামুল হক কাসেমী এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী সজল কুমার কর। মুফতি এহতেশামুল হক কাসেমী দুটি কেন্দ্রে জয়ী হয়ে সর্বমোট ১৪ হাজার ২৭৭ ভোট পেলেও তা জামানত রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। অন্যদিকে সজল কুমার কর পেয়েছেন মাত্র ২৬১ ভোট, যার মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রে তিনি কোনো ভোটই পাননি।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। এছাড়া দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে খেলাফত মজলিসের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা সোলাইমান খাঁন ২৬ হাজার ৩১৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন।








