সোমবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লা-৭ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় তুঙ্গে ড. রেদোয়ানসহ চার প্রার্থী, মাঠে নেই ‘ছড়ি’

ওসমান গনি, চান্দিনা প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৭ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় তুঙ্গে ড. রেদোয়ানসহ চার প্রার্থী, মাঠে নেই ‘ছড়ি’
কুমিল্লা-৭ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় তুঙ্গে ড. রেদোয়ানসহ চার প্রার্থী, মাঠে নেই ‘ছড়ি’/ছবি: প্রতিনিধি

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন চরমে। প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে এসে আসনটির প্রতিটি গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে মূলত বহুমুখী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রার্থীরা। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী।

বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ডক্টর রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার বিপরীতে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা সোলায়মান খান লড়ছেন দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি এহতেশামুল হক হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন কলস এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সুনীল কুমার কর ছড়ি প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন।

নির্বাচনী এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ড. রেদোয়ান আহমেদসহ অধিকাংশ প্রার্থী উপজেলাজুড়ে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিছিল, পথসভা ও উঠান বৈঠক। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা যাচ্ছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে, করছেন ভোট প্রার্থনা। তবে এই ব্যাপক প্রচারযজ্ঞের মাঝে একেবারেই নিরুত্তাপ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী সুনীল কুমার করকে। মাঠ পর্যায়ে এখন পর্যন্ত তাঁর ‘ছড়ি’ প্রতীকের কোনো দৃশ্যমান প্রচার মাইকিং চোখে পড়ছে না। এমনকি সাধারণ ভোটারদের সাথেও তাঁর কোনো যোগাযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী মাঠে অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ডক্টর রেদোয়ান আহমেদ। তিনি ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন তাঁর মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের ব্যাপক উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের খতিয়ান। অভিজ্ঞ এই নেতার বিপরীতে অন্য চার প্রার্থীই এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নতুন এই প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন পরিবর্তনের ডাক। মাওলানা সোলায়মান খান ও মুফতি এহতেশামুল হক ধর্মপ্রাণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি জনসেবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে তরুন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন তাঁর ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ কৌতূহল ও আশার আলো দেখাচ্ছেন। তিনি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নতুন ধারার রাজনীতির বুলি শোনাচ্ছেন।

উপজেলার প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এখন প্রার্থীদের মাইকিংয়ের শব্দে কান পাতা দায়। প্রচারকারীরা বিভিন্ন ছন্দ ও গানের মাধ্যমে প্রার্থীদের গুনাগুন ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন। কোথাও কোথাও প্রার্থীরা ভোটারদের পা ছুঁয়ে সালাম করছেন, আবার কোথাও দোয়া ও আশীর্বাদ চাইছেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে প্রার্থীরা তাদের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন। সব মিলিয়ে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চান্দিনায় এখন এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রবীণ অভিজ্ঞতা নাকি নবীনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি—শেষ পর্যন্ত চান্দিনাবাসী কার গলায় জয়ের মালা পরায়।

আরও পড়ুন