
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে এনসিপি নেতা ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। একই সঙ্গে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে স্থাপিত স্থায়ী আপিল বুথে এসব আবেদন ও আপিল জমা পড়ে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উভয় পক্ষ তাদের আপিল ও আবেদন দাখিল করেছেন। এখন এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ শুনানি গ্রহণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, কেবল কুমিল্লা-৪ আসন নয়—দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন নিয়ে একাধিক আপিল ও বাতিলের আবেদন জমা পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও আপত্তি উত্থাপন করা হচ্ছে।
আপিল আবেদনের শেষ দিন হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল গ্রহণ কার্যক্রম চলে। নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য দিনের মতো বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত থাকলেও বিকাল পেরিয়ে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত আগারগাঁওয়ে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কমিশন কর্মকর্তারা জানান, বিকাল পাঁচটার মধ্যে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবার আবেদন গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান মোট ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওইদিন ৭৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। সেদিন কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানান, কুমিল্লা-১ আসনে ৫ জন, কুমিল্লা-২ আসনে ৪ জন, কুমিল্লা-৩ আসনে ২ জন, কুমিল্লা-৪ আসনে ২ জন, কুমিল্লা-৫ আসনে ১ জন এবং কুমিল্লা-৬ আসনে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের শেষদিন ছিল আজ। এসব আপিলগুলোর শুনানি ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।









