শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লা নগরীতে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ‘খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল’এর উদ্বোধন

রাইজিং ডেস্ক

Rising Cumilla - Khairunnesa-Ibrahim General Hospital
খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হসপিটাল

কুমিল্লায় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। স্বল্প খরচে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ শুক্রবার সকালে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকালে এই হাসপাতালের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আধুনিক, সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।” তিনি আরও যোগ করেন, এই হাসপাতাল কুমিল্লার মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকায় ‘শৃঙ্খলাই জীবন’ এই শ্লোগান সামনে রেখে গড়ে ওঠা হাসপাতালটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আস্থার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতিতেই এই হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসকের সমন্বয়ে এটি দেশের অন্যতম সেরা মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, এই হাসপাতালের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য ঢাকা যেতে হবে না। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক ল্যাব ও নির্ভুল রিপোর্ট প্রদানের সুবিধা থাকবে এবং “টাকার অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ হবে না।”

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক (এনএইচএন)- এর চেয়ারম্যান সৈয়দ রেজওয়ানুল কবির, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ.বি.এম. মশিউজ্জামান, ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর, প্রফেসর হাজেরা মাহাতাব, মরহুম এটিএম শামসুল হকের সহধর্মিণী মিসেস রাবেয়া হক ও এনএইচএনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. এম এ সামাদ। রাজনৈতিক ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কুমিল্লার মানুষের জন্য এমন একটি হাসপাতালের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ছিল, যা আজ বাস্তবে রূপ পেল। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হবে এবং সমন্বিত চিকিৎসাসেবা দেবে।

এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির যৌথ অর্থায়নে। এখানে ডায়াবেটিসসহ সার্বিক রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবা পাওয়া যাবে।

হাসপাতালের বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে: মেডিসিন, সার্জারি, গাইনী, শিশু, কিডনি, অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, চক্ষু ও দন্ত বিভাগ। এছাড়াও ইকো, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, কালার ডপলার, ইসিজি, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন সুবিধা রয়েছে। অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, চোখের অপারেশন ইউনিট, ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফার্মেসি সেবাও চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মরহুম এটিএম শামসুল হকের রুহের মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তিনি এই হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নিজের মায়ের নামে ১২৫ শতক জমি দান করেছিলেন।

আরও পড়ুন