
দুই দিনব্যাপী যাচাই-বাছাই শেষে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ৭৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ও তার আগের দিন শুক্রবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা-৭ থেকে কুমিল্লা-১১ আসনের মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। এদিন ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদের।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা-১০ আসনে (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে শুক্রবার কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল।
এদিকে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম -মনোহরগঞ্জ) আসনে, এই আসনে ১৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তবে একই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. সরওয়ার সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে যাদের:
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান, স্বতন্ত্র ওমর ফারুক, কাজী মো. ওবায়েদ ও আবু জায়েদ আল মাহমুদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন, মো. রমিজ উদ্দিন ও মো. মনোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ইউসুফ সোহেল (অবৈধ) ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ম. আ. করিমের (স্থগিত), আমজনতার দল মো. মাসুদ রানা (অবৈধ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন (অবৈধ) ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে এনসিপির মো. আবুল বাশার ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল কাফির মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর উপজেলা, সদর দক্ষিণ উপজেলা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সেনানিবাস) আসনে মুক্তি জোটের মো. আমির হোসেন ফরায়েজীর মনোনয়ন (অবৈধ), বাসদের কামরুন নাহার সাথী (অবৈধ)।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে মুক্তিজোটের সজল কুমার কর ও স্বতন্ত্র মাওলানা সালেহ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন ও বাসদের মোহাম্মদ আলী আশরাফের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র সামিরা আজিম দোলা (বাতিল), রশিদ আহমেদ হোসাইনী (বাতিল), জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল (বাতিল), স্বতন্ত্র ইয়াছির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (বাতিল), মোহাম্মদ মফিজুর রহমান (বাতিল)।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) বিএনপি থেকে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও স্বতন্ত্র মোস্তফা সাজ্জাদ হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তৌহিদুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, কুমিল্লায় ১১টি আসনে ৭৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৭৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩১টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।









