
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় অটোরিকশা চালক মাঈন উদ্দিন (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল আসামি মো. রফিককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও থানাধীন ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সকালে বুড়িচং থানাধীন ষোলনল ইউনিয়নের ভান্তি এলাকায় গোমতী বেড়িবাঁধের সুইচগেটের পশ্চিম পাশে অটোরিকশা চালক মাঈন উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিহত মাঈন উদ্দিন গত ১৫ নভেম্বর বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে বুড়িচং উপজেলার সাতরা চম্পকনগর এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। রাত ৮টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরদিন ১৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে।
গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মো. রফিক (৪০) কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও থানায় আত্মগোপনে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. রফিক (৪০) গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার মাঠের হাট এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত ফখর উদ্দিনের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অটোরিকশা চালক মাঈন উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, গত ১৫ নভেম্বর রাতে অটোরিকশা চালানোর সময় সে ও তার সহযোগীরা মাঈন উদ্দিনের পথরোধ করে তার কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গেঞ্জি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তারা অটোরিকশা থেকে পাঁচটি ব্যাটারি নিয়ে পালিয়ে যায়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বুড়িচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।










