
কুমিল্লার দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ১২ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও দুটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে জেলার তিতাস থানার উজিরাকান্দি গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের স্ত্রী মোছা. নাছরিন আক্তারের বসতঘরের গেইটের তালা ভেঙে ডাকাতরা প্রবেশ করে। এ সময় তারা হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
একই সময়ে একই থানার কাকিয়াখালী এলাকায় মৃত মমতাজ মিয়ার স্ত্রী মঞ্জুরা বেগমের বাড়ির দরজা ভেঙে বসতঘরে প্রবেশ করে ডাকাতরা। তারা বাদীর মুখ চেপে ধরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিম্মি করে এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় তিতাস থানায় মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ।
অভিযানে অংশ নেওয়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি মো. শামসুল আলম শাহ জানান, পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পংকজ বড়ুয়া ও সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল)-এর নেতৃত্বে জেলা ডিবি পুলিশ ও দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিতাস ও দাউদকান্দি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে লুণ্ঠিত মালামাল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতদলের ১২ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার হাঁটাস গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে মো. জীবন মিয়া (৪৫), দাউদকান্দি মডেল থানার পশ্চিম মলয় গ্রামের মৃত চারু মিয়ার ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), আমিরাবাজ গ্রামের মৃত সিরাজ ভূঁইয়ার ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), হরিপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. নাসির (৩৬), দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত জাহেদ আলীর ছেলে আবু তাহের (২২), কালাসোনা গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে মো. জামাল কুদ্দুস (৪০), বেখিনাঘর গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে মো. মকবুল হোসেন (৩৭), দক্ষিণ নগর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মো. কামাল (৩২), তিতাস থানার মোহনপুর গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে মো. ওবাইদুল (৩৫), চান্দিনা থানার অম্বরপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে মো. হানিফ (২৯), ব্রাহ্মণপাড়া থানার পূর্ব পোমকাড়া গ্রামের মো. লতিফের ছেলে মো. জহির (৪৮) ও ও চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার আমির হোসেনের ছেলে মো. সৌরভ হোসন (২২)।
এসময় একটি স্বর্ণের চেইন, ৩টি স্বর্ণের কানের দুল, এক জোড়া রুপার নূপুর, একটি রুপার বেসলাইট, একটি রুপার চেইন, একটি সিলভার রংয়ের ডিজিটাল ক্যামেরা, দুটি কষ্টি পাথর, একটি টর্চ লাইট, একটি ব্রেন্ডার মেশিন, ৫টি সিটিগোল্ড এর চুরি, একটি সিটিগোল্ডেনের বেসলাইট, একটি ছোট চার্জ লাইট, দুটি বেডশীট ও বালিশের কভার, একটি জিপাস ব্র্যান্ডের ব্রান্ডার মেশিন, দুটি গ্লুসারনা ব্রান্ডের দুধের কৌটা, একটি কালো রংয়ের স্টারলাইট ব্রান্ডের টর্চ লাইট, একটি এমআই ব্র্যান্ডের চার্জারসহ রাউটার মেশিন, দুটি এভরিওয়ে ব্যান্ডের এক কেজি করে প্যাকেট, একটি ফেরলিফ ব্রান্ডের দুধের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডাকাতদলের নিকট থেকে দুটি কাঠের বাটযুক্ত ছুরি, একটি হলুদ রংয়ের কাটার, একটি লোহার শাবল, একটি লোহার রড, ১২টি বিভিন্ন রংয়ের হাফ প্যান্ট ও মুখোশ, ১৩টি মোবাইল ফোন, দুটি সিএনজি ও নগদ ৩৭ হাজার ২৪৭ টাকা উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. জীবন মিয়ার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী জেলার বিভিন্ন থানায় ৪টি মামলা, মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় ২টি মামলা, মো. নাসিরের বিরুদ্ধে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানায় ৭টি মামলা, আবু তাহের এর বিরুদ্ধে কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা, মো. জামাল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানায় দুটি মামলা, মো. হানিফের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন থানায় ৩টি মামলা, মো. সৌরভ হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন থানায় ৩টি মামলা, মো. জহির এর বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা, মো. মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানায় ২টি মামলা ও মো. কামাল এর বিরুদ্ধে কুমিল্লা এবং চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।









